শিশুদের মতামত নীতিনির্ধারণে যথাযথ গুরুত্ব পায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
Published : 02 Sep 2026, 08:39 PM
দেশে শিশু নির্যাতনের পেছনে শিক্ষার অভাব, সামাজিক অসচেতনতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি অন্যতম কারণ বলে মনে করেন শিশু অধিকারকর্মী ও অপরাজেয়-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়াহিদা বানু।
হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি শিশু নির্যাতনের কারণ ও তা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে কথা বলেন।
ড. ওয়াহিদা বানু বলেন, আমাদের সমাজে এখনও অনেক অভিভাবক সন্তানকে মারধর করাকে শাসনের অংশ এবং তাদের অধিকার বলে মনে করেন।
তার ভাষায়, “বেশিরভাগ পিতামাতা মনে করেন সন্তানকে মারধর করা তাদের অধিকার। কারণ তারা সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করেন।”
তার মতে, শিশু নির্যাতন শুধু পরিবারে সীমাবদ্ধ নয়। স্কুল, কর্মক্ষেত্র, খেলার মাঠসহ বিভিন্ন জায়গায় শিশুরা শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অথচ অধিকাংশ শিশুই জানে না, নির্যাতনের শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করতে হবে বা কার কাছে সহায়তা চাইতে হবে।
যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযোগ না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে ড. ওয়াহিদা বানু একটি গবেষণার উদাহরণ দেন।
তিনি বলেন, “কোনো শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হলে অভিযোগ না করার পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করে। এগুলো হল অভিযোগ করার পর আবার নির্যাতনের শঙ্কা, সামাজিকভাবে অপমানিত হওয়ার ভয় এবং ভবিষ্যতে বিয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা।”
শিশুদের মতামত নীতিনির্ধারণে যথাযথ গুরুত্ব পায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, “শিশুরা যেহেতু ভোটার নয়, তাই রাষ্ট্র পরিচালনাকারীরা তাদের মতামত শুনলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে না। শিশু অধিকারের বিষয়টি এখনও অনেকাংশে কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।”
ড. ওয়াহিদা বানুর মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি নির্যাতনকারীদের উৎসাহিত করে এবং ভুক্তভোগী শিশুদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে।
এদিকে, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে দেশে ৩২৮ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪২ শতাংশ প্রাণ হারিয়েছে এবং ২৩ শতাংশ যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউনিসেফের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এক থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ৯ জন কোনো না কোনো ধরনের পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়।
এছাড়া আইসিডিডিআর,বি-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি দুই শিশুর একজন একাধিকবার বিদ্যালয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। একই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নির্যাতনের সঙ্গে শুধু পরিবারের সদস্য নয়, শিক্ষক, বন্ধু, কর্মক্ষেত্রের মালিক এবং অপরিচিত ব্যক্তিরাও জড়িত।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: ঢাকা।