আমার মতে, আমাদের দেশে শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা এখনো পর্যাপ্ত নয়।
Published : 01 Sep 2026, 12:31 PM
কয়েকদিন আগে আমার এক বন্ধুকে হঠাৎ চুপচাপ লাগছিল। আগে সে হাসিমুখে স্কুলে আসত, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করত ও নানা কার্যক্রমে অংশ নিত। কিন্তু ধীরে ধীরে সে সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম, হয়ত সাময়িক মন খারাপ। পরে ঠিক হয়ে যাবে।
একদিন কথা বলতে গিয়ে জানতে পারি, পড়াশোনার চাপ, পরিবারের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলেছে। ঘটনাটি আমাকে ভাবিয়েছে। আমরা একজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফলাফল দেখি, কিন্তু তার মানসিক অবস্থার খবর কতটা রাখি?
আমার মতে, আমাদের দেশে শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা এখনো পর্যাপ্ত নয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী নীরবে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও একাকিত্ব নিয়ে দিন কাটায়।
একজন শিশুর মানসিক চাপের পেছনে সাধারণত একাধিক কারণ থাকে। পরীক্ষায় ভালো করার প্রতিযোগিতা, পরিবারের অতিরিক্ত প্রত্যাশা, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা একজন শিক্ষার্থীর মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বাবা-মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাবা মায়ের সবসময় সন্তানের মানসিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের আচরণের পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া উচিত।
আমার মনে হয়, স্কুলে নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা, কাউন্সেলিং এবং বুলিং প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশুদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, সমাজের সবারই বুঝতে হবে, মানসিক স্বাস্থ্য কোনো বিলাসিতা নয়। এটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য খুবই দরকারি একটি বিষয়।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: সাতক্ষীরা।