আংশিক তথ্য প্রচার বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
Published : 01 Sep 2026, 12:51 PM
ছুটির দিনে সাধারণত আমি দেরি করে ঘুম থেকে উঠি। গেল শুক্রবারও তাই হল। ঢাকায় কিছুটা ঠান্ডা পড়ায় আরেকটু বেশি সময় লেগে গেল বিছানা ছাড়তে।
উঠার কিছুক্ষণ পর হালকা কম্পন টের পেলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম ঘোর লাগছে। তারপরই আম্মুর ডাক শুনলাম। তিনি তাড়াতাড়ি নিচে নামতে বললেন।
বিছানার দিকে তাকিয়ে বুঝলাম কম্পন থামছে না। তখনই বুঝতে পারলাম ভূমিকম্প হচ্ছে।
আমি আর দেরি না করে নিচে নেমে গেলাম। দ্বিতীয় তলায় থাকায় বেশি সময় লাগেনি। নিচে গিয়ে দেখি অনেক প্রতিবেশী নেমে পড়েছে। সবার মুখে ভয় আর উদ্বেগ।
কিছুক্ষণ পর ঘরে ফিরে টেলিভিশন আর সংবাদপত্র থেকে জানতে পারি, ভূমিকম্পের আঘাতে কয়েকটি স্থানে ভবনে ফাটল ধরেছে।
এরপর থেকে লক্ষ্য করলাম, কিছু সংবাদমাধ্যম ভূমিকম্প নিয়ে বাড়তি আতঙ্ক তৈরি করা শুরু করেছে। কোথাও বলা হচ্ছে, 'এই মাসে অনেকগুলো ভূমিকম্প হবে', কোথাও আবার 'বিভিন্ন এলাকার নাম উল্লেখ করে এর নিচে ফল্টলাইন আছে' বলা হচ্ছে। আমি মনে করি, এই ধরনের খবর মানুষকে শান্ত থাকতে দিচ্ছে না।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ওয়েবসাইট থেকে জানতে পেরেছি, পৃথিবীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫টি ভূমিকম্প হয়। কিন্তু শুক্রবারের বড় ওই ভূমিকম্পের পর আমাদের কিছু গণমাধ্যম পৃথিবীর সব ছোট ছোট ভূমিকম্পের খবরও ফলাও করে প্রচার করছে। সাধারণ সময় এ ধরনের খবর তারা প্রচার করে না। মূলধারার গণমাধ্যমের এই ধরনের কাজ কি আতঙ্ক তৈরি করে না?
তাছাড়া আমরা জানি, যিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ বেশি সংবাদমাধ্যমের উচিত তার বক্তব্য প্রচার করা। কিন্তু কিছু সংবাদমাধ্যম অভিজ্ঞ নয়, এমন ব্যক্তিকেও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তার বক্তব্য প্রচার করছে।
তাদের বরাত দিয়ে 'অনেক ভবন ধ্বংস হয়ে যাবে', 'জরুরি পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে'- এরকম নানা আশঙ্কার কথাই শুধু প্রচার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুললেই চোখে পড়ছে সংবাদমাধ্যমের এই ধরনের ফটোকার্ড কিংবা ভিডিও।
তবে ওই সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি ভুল প্রমাণ করার সুযোগ কম। কারণ তাদের কাউকে কাউকে একটা সূত্র অনুসরণ করতে দেখেছি।
যেমন, তারা যদি সত্য তথ্যের পুরোটা অংশ থেকে শুধু ভয়ের অংশটুকুই বলে, বাকিটা না বলে, এতে সরাসরি ভুল প্রমাণ করা যায় না। কিন্তু এই আংশিক তথ্য প্রচার বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
আমাদের রাজধানী ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এই শহরে বহুতল ভবনের সংখ্যাই বেশি। বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটলে এই শহরের কী ঘটবে তা ভাবলে ভয় লাগে।
এটাও সত্য যে, ভূমিকম্প নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি খুবই সামান্য। এজন্য মানুষকে সতর্ক করা যেতে পারে। কিন্তু আতঙ্ক তৈরি করার পক্ষে নই আমি। মানুষ যদি শান্ত থাকতে না পারে তাহলে যে কোনো পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে যায়।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৫। জেলা: ঢাকা।