এই ভ্রমণে পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রাও খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়।
Published : 01 Sep 2026, 03:16 PM
পাহাড় আর মেঘের সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। সেই ইচ্ছে পূরণে দুই মামাতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে গেল সপ্তাহে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হই।
রাত ১১টায় মতিঝিল থেকে আমাদের বাস ছাড়ে। পরদিন সকাল ১০টার দিকে খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছাই। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে চাঁদের গাড়িতে সাজেকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি। খাগড়াছড়ি থেকে পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে সাজেকে পৌঁছাতে আমাদের প্রায় চার ঘণ্টা লেগেছে।
দুপুর ২টার দিকে সাজেকে পৌঁছে দেখি তখনও বৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড়ের সরু ও পিচ্ছিল রাস্তা দেখে কিছুটা ভয় লাগছিল। তবে পাহাড়ের ওপর থেকে মেঘের দৃশ্য দেখে সেই ভয় অনেকটাই কেটে যায়।
আমাদের হোটেল ছিল কংলাক পাহাড়ের কাছাকাছি। হোটেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে যতদূর চোখ যায়, শুধু মেঘ আর পাহাড়ের চূড়া দেখা যাচ্ছিল। বৃষ্টির কারণে প্রথম দিন বেশিরভাগ সময় হোটেলেই কাটে।
পরদিন সকালে কংলাক পাহাড়ের চূড়ায় যাই। অনেকগুলো সিঁড়ি পেরিয়ে সেখানে পৌঁছে চারপাশের মেঘ ও পাহাড়ের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই। চূড়ায় বসে চা খাই এবং ছবি তুলি। পরে লুসাইদের গ্রাম, রুইলুই পাড়া ও হ্যালিপ্যাড ঘুরে দেখি। পাহাড়িদের তৈরি কিছু জিনিসও কিনি।
এই ভ্রমণে পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রাও খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়। অনেক নারীকে ভারি জিনিসপত্র নিয়ে পাহাড়ে ওঠানামা করতে দেখেছি। একসময় একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে দুইজন মানুষ কাপড়ে তুলে কাঁধে করে পাহাড় থেকে নামিয়ে নিচ্ছিলেন। কঠিন জীবনযাপনের এই দৃশ্যটি আমাকে ব্যথিত করেছে।
তৃতীয় দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আকাশ পরিষ্কার। আগের দুই দিনের মেঘের আড়ালে থাকা পাহাড়গুলো এবার স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। ফেরার সময় চাঁদের গাড়িতে পাহাড়ি পথের সৌন্দর্যও উপভোগ করেছি।
এই ভ্রমণে আমি প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখার পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের কঠিন জীবনযাপন দেখার সুযোগ পেয়েছি। এছাড়া ভয়কেও জয় করার সুযোগ দিয়েছে এই ভ্রমণ।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: ঢাকা।