স্যার আমার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পেরেছিলেন যে আমি ভয় পেয়েছি। তা দেখে তিনি আমাকে সাহস দিলেন।
Published : 01 Sep 2026, 09:13 AM
আমার পছন্দের অনেক শিক্ষক আছেন। তাদের মধ্যে আসিফ ইকবাল স্যার আমার সবচেয়ে প্রিয়। তার কাছে থেকে আমি সবসময় এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাই।
একসময় আমি খুব লাজুক ছিলাম। সবার সামনে কথা বলতে পারতাম না। বেশি মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে অস্বস্থি বোধ করতাম। সে অবস্থা থেকে আমার উন্নতি ঘটেছে শুধুমাত্র স্যারের কারণে।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর আমি সবার কাছে অপরিচিত ছিলাম। এদিকে আমার আত্মবিশ্বাসও ছিল খুব কম।
একদিন এক অনুষ্ঠানে আসিফ স্যার একটি বক্তৃতা দেন। সেখানে তিনি বলেন, “ভালো ছাত্র সবাই হতে পারে, কিন্তু সবাই দশজন মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারে না।” এই কথাটি আমার মনে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
সেদিন থেকেই আমি সিদ্ধান্ত নিই, যদি কেউ আমাকে চেনে তাহলে একজন ভালো বক্তা হিসেবেই চিনবে। তারপর আমি নিজেকে সেভাবে গড়ে তুলতে শুরু করি।
আমার জীবনের প্রথম বক্তৃতা ছিল শিক্ষক দিবসে। সেদিন আমি অনেকটা ভয়ে ছিলাম। স্যার আমার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পেরেছিলেন যে আমি ভয় পেয়েছি। তা দেখে তিনি আমাকে সাহস দিলেন। বললেন, তুমি অবশ্যই পারবে।
সেদিন আমি বক্তৃতা শেষ করার পর অনেকেই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু আমি মনে মনে ঠিক করেছিলাম একদিন আমি এমনভাবে কথা বলব যাতে সবাই আমার কথা শুনে হাত তালি দেয়।
এরপর তিন বছর কেটে যায়। এই সময়ে আমি নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকি। নিয়মিত চর্চা করেছি, ভুল থেকে শিখেছি কিন্তু কখনো হাল ছাড়িনি।
আমি এখন নবম শ্রেণিতে পড়ি। আর বিদ্যালয়ের সবাই এখন আমাকে একজন ভালো বিতার্কিক হিসেবে চেনে।
আমার নতুন এই পরিচয়ের পেছনে আসিফ স্যারের চেষ্টা ও পরিশ্রম রয়েছে। তিনি আমাকে হাতে-কলমে শিখিয়েছেন কীভাবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলতে হয়। কীভাবে নিজের ভাবনা সবার সামনে তুলে ধরতে হয়।
আমি মনে করি, যদি তিনি আমার পাশে না থাকতেন তাহলে হয়ত আমি আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পারতাম না। আমার এসব স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যেত।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৫। জেলা: সাতক্ষীরা।