সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মারা যাওয়ার পর বড় বোনটির বিয়ে হয়। তখন তার বয়স মাত্র ১৩ বা ১৪ বছর।
Published : 27 Oct 2026, 07:00 PM
আমার দুই প্রতিবেশীর বাল্যবিয়ে হয়েছে। তারা সম্পর্কে দুই বোন। তাদের জীবনে বাল্যবিয়ের প্রভাব খুব কাছ থেকে আমি দেখেছি।
সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মারা যাওয়ার পর বড় বোনটির বিয়ে হয়। তখন তার বয়স মাত্র ১৩ বা ১৪ বছর।
বিয়ের কিছুদিন পরই সে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। অথচ তখন সে নিজেই শিশু। সংসারের দায়িত্ব নেওয়া, পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা বোঝা কিংবা মতবিরোধ সামলানোর মত মানসিক প্রস্তুতি তার ছিল না।
ধীরে ধীরে দাম্পত্য জীবনে নানা সমস্যা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
এরপর ছোট বোনটিরও বাল্যবিয়ে হয়। জানতে পারি, তার সংসারেও শান্তি নেই। প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হয়। তার আশঙ্কা, একসময় হয়ত তারও বিবাহবিচ্ছেদ হবে।
এই দুই বোনের জীবন দেখে বুঝেছি, বাল্যবিয়ের প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে। অল্প বয়সে বিয়ে হলে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। কম বয়সে গর্ভধারণ মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শুধু তা-ই নয়, সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার মতো মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হওয়ার আগেই অনেক কিশোরীকে নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। দাম্পত্য কলহ, পারিবারিক নির্যাতন কিংবা বিবাহবিচ্ছেদের মত ঘটনা তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ কমে গেলে অর্থনৈতিকভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে।
আমার মনে হয়, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রথমেই অভিভাবকদের সচেতন করা প্রয়োজন। সন্তানদের অল্প বয়সে বিয়ে না দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ দিতে হবে।
পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদেরও বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জানাতে হবে। দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো জরুরি, যাতে আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশুকে বিয়ে দিতে না হয়। বিদ্যালয়েও এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।
আমি বিশ্বাস করি, শুধু আইন প্রয়োগ করে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি শিশুর বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা করা এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: নীলফামারী।