আমার কাছে হ্যালো কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি ছিল একটি স্কুল।
Published : 05 Apr 2026, 06:53 PM
শিশু সাংবাদিক হিসেবে শেষ লেখাটি লিখতে বসেছি। শুরু করতেই মনে হচ্ছে শব্দগুলো আজ একটু বেশিই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে চোখের সামনে ভেসে উঠছে অনেক স্মৃতি।
শিশু সাংবাদিকতায় বিশ্বের প্রথম বাংলা সাইট হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি। সেই দিনটি আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
তখন আমি নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কৈশোরের দিনগুলোতে কৌতূহলী মন নানা প্রশ্ন করত, অনেক কিছু বলতেও চাইত। তবে জানতাম না কোথায় এবং কীভাবে তা প্রকাশ করতে হয়। হ্যালো আমাকে সেই সুযোগটাই করে দেয়।
শুরুতে লেখার কাজটি সহজ ছিল না। অনেক ভুল হত তখন। কত যে ঘষামাজা করতে হত।
সেখান থেকেই হ্যালো আমাকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে। শিখিয়েছে কীভাবে একটি সংবাদ বা নিজের মতামত সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে হয়।
অনেক সময় আমারৈ প্রতিবেদন নির্বাচিত না হওয়ায় মন খারাপ হয়েছে। তবে এর মধ্য দিয়েই শিখেছি কীভাবে আমার লেখার মান আরও বাড়ানো যায়।
হ্যালোর শিশু সাংবাদিক হিসেবে মাঠে কাজ করতে গিয়ে আমি নতুন এক পৃথিবীকে চিনেছি। অনেক মানুষের খুব কাছে গিয়ে তাদের জীবনের গল্প শোনার সুযোগ পেয়েছি।
আমার কাজের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল শিশু শ্রমিক ও প্রান্তিক কৃষকদের জীবন। কৃষকের ফসলভরা ক্ষেত যেমন আমাকে আনন্দ দিয়েছে, তেমনি তাদের অভাব-অনটন আমার হৃদয়ে স্পর্শ করেছে। আবার যে বয়সে শিশুদের স্কুলে থাকার কথা, সেই বয়সে সংসারের ভার টেনে নেওয়া শিশুদের জীবন আমাকে ব্যথিত করেছে।
হ্যালো আমাকে শিখিয়েছে সমাজ পরিবর্তনে একজন সাংবাদিকের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই তো আমার কাছে হ্যালো কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি ছিল একটি স্কুল।
হ্যালো পরিবারের প্রতিটি সদস্যের কাছ থেকেই আমি কিছু না কিছু শিখেছি। এখান থেকেই আমি আদর্শ সাংবাদিকতার পাঠ নিয়েছি।
বয়স ১৮ হয়ে গেলে হ্যালোতে কাজ করা যায় না, সেই নিয়ম অনুযায়ী আমাকে বিদায় নিতে হচ্ছে। আজ থেকে আমার নামের আগে ‘শিশু সাংবাদিক’ পরিচয়টি আর থাকবে না। কিন্তু হ্যালো আমাকে যে শিক্ষা ও আত্মবিশ্বাস দিয়েছে তা আমার সঙ্গে সবসময় থাকবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: নওগাঁ।