বাবা বা মা সচেতন না হলে এই আইন কতটুকু সফল হবে আমি জানি না।
Published : 16 Jul 2026, 05:57 PM
গত সপ্তাহে আমাদের গ্রামে এক মেয়ের বাল্যবিয়ে হয়৷ প্রশাসনের আড়ালে চুপিসারে সম্পন্ন হয় এই বিয়ে৷ বাল্যবিয়ের শিকার মেয়েটি স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত।
মানুষের কাছে শুনেছি, মেয়েটি পড়াশোনাতেও বেশ ভালো ছিল। এই ঘটনার পর থেকে আমার মনে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে, এই মেয়েটি কি আর কোনো দিন স্কুলে ফিরতে পারবে?
বাল্যবিয়ে সম্পর্কে আমার এত দিনের ধারণা বলছে, অনেক মেয়ের মত এই মেয়েটিরও হয়ত শিক্ষাজীবন এখানেই থেমে যাবে।
শুধু তাই নয়, অল্প বয়সে বিয়ে তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অসচ্ছলতা ও সামাজিক কুসংস্কারের কারণে আমাদের সমাজের অনেক পরিবারই অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেয়। এই মেয়েটির ক্ষেত্রেও সম্ভবত এমনটিই ঘটেছে।
বাল্যবিয়ে বন্ধে আইন আছে। কিন্তু প্রশাসন খোঁজ না পেলে সে আইনের কার্যকারিতা কতটুকু? বাবা বা মা সচেতন না হলে এই আইন কতটুকু সফল হবে আমি জানি না।
তাই আমার মতে, বাল্যবিবাহ রোধে শুধু আইন থাকাই যথেষ্ট নয়। পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদেরও তাদের অধিকার সম্পর্কে সচতন করতে হবে।
আমি চাই, আমাদের সমাজে আর কোনো শিশুর শৈশব ও শিক্ষাজীবন যেন বাল্যবিবাহের কারণে থেমে না যায়। এজন্য প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৩। জেলা: সিরাজগঞ্জ।