নিরাপদ ইন্টারনেট শুধু সুবিধা নয়, শিশুর অধিকার।
Published : 20 Nov 2025, 05:38 PM
আজকের পৃথিবীতে শিশুর শৈশব শুধু খেলাধুলা, বিদ্যালয় আর পরিবারে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের জীবনের বড় অংশ এখন কাটে ইন্টারনেটের দুনিয়ায়।
পড়াশোনা, বিনোদন, যোগাযোগসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই তারা প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে। তাই শিশু অধিকার নিয়ে কথা বলতে গেলে নিরাপদ ইন্টারনেটকে আলাদা করে ভাবা যায় না।
আমি মনে করি, ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন শিশু সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইন্টারনেট শিশুদের সামনে শেখা ও সৃজনশীলতার নানা সুযোগ খুলে দেয়। কিন্তু একই সঙ্গে নানা ঝুঁকিও তৈরি করে।
ফেইক অ্যাকাউন্ট, ভুয়া বন্ধুত্ব, প্রতারণা, বডি শেমিং, গালি বা অশোভন বার্তা ছোট মনে ভয়, লজ্জা ও মানসিক চাপ তৈরি করে। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস কমে যায় ও মনোযোগে সমস্যা হয়।
এছাড়াও অনলাইন প্রতারকেরা অনেক সময় শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানায়।প্রায়ই অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা পাসওয়ার্ড নেওয়ার চেষ্টা করে। কখনো কখনো এসব দিয়ে ব্ল্যাকমেইলও করা হয়।
অন্যদিকে গেইমে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো ঘুম, পড়াশোনা ও বাস্তব জীবনের সম্পর্কের ক্ষতি করে। দীর্ঘদিনে এসব অভ্যাস শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী, প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা, সঠিক তথ্য পাওয়া এবং ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকার অধিকার রয়েছে।
ইন্টারনেট নির্ভর এই যুগে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব এই অধিকারকে বাস্তবে কার্যকর করা।
পরিবার ও সমাজকেও সচেতন হতে হবে। শিশুকে দোষারোপ না করে মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনতে হবে, প্রশ্ন করতে উৎসাহ দিতে হবে এবং সহজ ভাষায় অনলাইন নিরাপত্তা শেখাতে হবে। স্কুলের পাঠ্যক্রমেও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়টি স্পষ্টভাবে যুক্ত হওয়া উচিত।
শিশুদের সুস্থ ও আনন্দময় বড় হওয়া কেবল বাস্তব জীবনে নয়, অনলাইন জীবনেও নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ ইন্টারনেট শুধু সুবিধা নয়, শিশুর অধিকার।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: ঢাকা।