সামাজিক এই ব্যধি নির্মুলে আমরা এখনো লড়াই করে যাচ্ছি।
Published : 05 Apr 2026, 07:38 PM
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক শিশুশিল্পী নিজের বিয়ের ঘোষণা দিলে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপর সে জানায়, বাগদান হয়েছে, আইন মেনে বিয়েটি হবে ১৮ বছর হওয়ার পর।
আমি মনে করি, শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহের কারণে নয়, বরং এই ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থেকেই এটি আলোচনায় এসেছে।
কারণ, এই শিল্পীর বয়স মাত্র ১৫ বছর। দেশের আইনে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে দণ্ডনীয় অপরাধ। সেই হিসেবে এই বিয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকেই সরাসরি আইন লঙ্ঘন করেছে।
তবে আইনি দিকের চেয়েও এর সামাজিক প্রভাব বেশি উদ্বেগের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে পরিচিত এক মুখ। ফলে তার এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। এই ঘটনা সাধারণের মধ্যে বাল্যবিয়েকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার মত ভয়ানক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সামাজিক এই ব্যধি নির্মুলে আমরা এখনো লড়াই করে যাচ্ছি। সেখানে এমন একটি ঘটনা নিঃসন্দেহে নিকৃষ্ট উদাহরণ তৈরি করেছে।
আমরা জানি, বাল্যবিয়ে শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে কিশোরীদের মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা তৈরি হতে পারে।
শারীরিক দিক থেকেও বাল্যবিয়ে ক্ষতিকর। অল্প বয়সে শরীর গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত না থাকায় প্রসবজনিত জটিলতার আশঙ্কা থাকে। এমনকি মায়ের মৃত্যুও হতে পারে।
সামাজিক মাধ্যমে যারা বাল্যবিয়ের কুফল নিয়ে কথা বলছে, তাদের অনেকেই সাইবার বুলিং বা হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। একটি গোষ্ঠী বাল্যবিয়ের মত ব্যধির পক্ষ নিয়ে হামলে পড়ছে।
আমি মনে করি, এসব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে কথা বলাটা জরুরি। সমাজের সব স্তরে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১২। জেলা: খুলনা।