সরকারের একজন শীর্ষ নীতিনির্ধারকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
Published : 19 Apr 2026, 09:26 PM
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রীর ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে মন্ত্রী একটি অনুষ্ঠানে কোমলমতি শিশুদের মাঝে একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, সেই মন্ত্রী শিশুদের কাছে একটি রাজনৈতিক দলের সাবেক প্রধানের নাতনি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে তার মেয়ের নাম জানতে চান। আসলে সাবেক দলীয় প্রধানের নাতনি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে একই ব্যক্তি। শিশুরা উত্তর দেওয়ার পর তিনি তাদের এই কথা বলতে বলেন যে, তারা বড় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে বা সাবেক দলীয় প্রধানের নাতনির সঙ্গেই রাজনীতি করবে।
মন্ত্রীর এই কাজটি অনেকের কাছে শিশুদের দিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণার মত মনে হয়েছে। অথচ শিশুদের মনস্তত্ত্বে এভাবে কোনো রাজনৈতিক আদর্শ ঢুকিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এটি তাদের নিজস্ব চিন্তার স্বাধীনতা নষ্ট করার শামিল।
আমরা জানি, প্রতিটি শিশুই বড় হয়ে নিজ বিবেক ও বিচারবুদ্ধির ভিত্তিতে রাজনৈতিক আদর্শ বেছে নেওয়ার অধিকার রাখে। তাই শৈশবেই তাদের কোনো দলের অনুসারী করে তোলা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়।
এই ঘটনার আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো সাইবার বুলিং। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই শিশুরা হাসির পাত্র বা ট্রলের শিকার হচ্ছে। না বুঝেই তারা যে পরিস্থিতির অংশ হয়েছে, তার জন্য এখন তাদেরই সামাজিক হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে।
সরকারের একজন শীর্ষ নীতিনির্ধারকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
পরবর্তীতে তিনি বিষয়টিকে শিশুদের নিয়ে তার স্বপ্ন বা প্রত্যাশা হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে তার এই ব্যাখ্যাও খুব একটা গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় না।
উপরন্তু, শিশুদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা দেশের প্রচলিত শিশু আইনের পরিপন্থী। এটি শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আমি চাই, ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রভাবশালী ব্যক্তি শিশুদের যেন এভাবে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার না করে। শিশুদের তাদের নিজস্ব চিন্তা ও আদর্শিক স্বাধীনতা নিয়ে বড় হতে দেওয়া উচিত।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: ঢাকা।