এর আগে শুক্রবার তার আরেক প্রার্থী সঞ্চিতা হঠাৎ করেই সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
Published : 19 Sep 2026, 04:18 PM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন উপনির্বাচন ঘিরে প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক নাটকের মোড় ঘুরছে।
রাজ্যের ভোটে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারানোর পর দলে বিভক্তির ধারাবাহিকতায় নাম ও প্রতীক পরিবর্তনের পর ফের নতুন সংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে শেষ পর্যন্ত তার মান রক্ষা হয়েছে। সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলে ভোটে থাকছেন মমতার প্রার্থী।
এনডিটিভি লিখেছে, রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে কর্মী হয়রানির অভিযোগ তুলে শনিবার সকালে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী।
কিন্তু দুপুরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি লড়াইয়ে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকদের রবিউল আলম বলেছিলেন, “এই মুহূর্তে দলের কোনো নিবন্ধিত প্রতীক নেই। আমাদের কর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং তাদের অধিকাংশই কাজের সন্ধানে এলাকা ছেড়েছেন।”
তিনি বলেন, “আমি কাকে নিয়ে নির্বাচন করব? প্রশাসনের দেওয়া চাপের কারণে কর্মীরা মাঠে থাকতে পারছেন না বলেই আমি মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তবে পরে সিদ্ধান্ত বদলে রবিউল আলম বলেছেন, তিনি নির্বাচন থেকে সরছেন না এবং ভোটে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম-এ দুই আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় ছিল। এর মধ্যেই রবিউল আলম ভোটে থাকার সিদ্ধান্ত জানালেন।
মমতার বন্দ্যোপাধ্যায় সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার লিখেছে, রবিউলের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানার পর দলের শীর্ষ নেতা তাকে ফোন করেন। ভোটের মাঠ না ছাড়ার জন্য তাকে অনুরোধ করেন মমতা। তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে। রবিউলকে তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে রাজি করার তিনি।
তার আগে শুক্রবার নন্দীগ্রাম আসনে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করার পর হঠাৎ করেই নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান।
নিজের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর নন্দীগ্রাম আসনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কিন্তু সেই তার আকস্মিক চালও ভেস্তে যায়, যখন ২০০৭ সালের একটি হত্যা মামলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার হন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান।
এ ধাক্কার আগেই বৃহস্পতিবার বড় সংকটে পড়েন মমতা। দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখোমুখি অবস্থানের কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের মূল নাম ও দলীয় প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেয় ভারতের নির্বাচন কমিশন।
ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে মমতার গোষ্ঠী বা বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী, কেউই মূল নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারছে না।
পরবর্তীতে কমিশন দুটি গোষ্ঠীর জন্যই সাময়িক নাম ও নতুন প্রতীক বরাদ্দ করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’।
অন্যদিকে অরূপ রায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম দিয়ে তাদের প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘খাম’।
নির্বাচন কমিশনের নাম ও প্রতীক স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।