পাশাপাশি মামলার যাবতীয় খরচও উত্তর কোরিয়াকে বহন করতে বলেছে আদালত।
দুই কোরিয়ার মৈত্রী বিষয়ক কার্যালয়টি ২০২০ সালের ১৬ জুন ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয় উত্তর কোরিয়া। ফাইল ছবি: রয়টার্স
Published : 16 Sep 2026, 03:36 PM
দুই কোরিয়ার মৈত্রী কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে ৪ হাজার ৪৬০ কোটি ওন (৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সিউলের একটি আদালত।
বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সিউলের দায়ের করা কোনো মামলায় আদালতের এটাই প্রথম রায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইউন সং ইওলের রক্ষণশীল সরকার ২০২৩ সালের জুনে মামলাটি করেছিল। পরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাময়িক সামরিক শাসন জারির ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত হন ইউন।
বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ-এর বরাতে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, সিউল কেন্দ্রীয় জেলা আদালত দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের পক্ষে রায় দিয়ে সীমান্ত শহর কেসংয়ে ২০২০ সালে ধ্বংস করা ভবনের পুরো ক্ষতিপূরণের অর্থ পিয়ংইয়ংকেই পরিশোধের আদেশ দিয়েছে।
পাশাপাশি মামলার যাবতীয় খরচও উত্তর কোরিয়াকে বহন করতে বলেছে আদালত। তবে এই রায়ের বিষয়ে সিউলের আদালত এবং বেইজিংয়ে অবস্থিত উত্তর কোরিয়ার দূতাবাস রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আদালতের রায়কে শ্রদ্ধা জানায় এবং প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করবে।
দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলো যেন সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধান করা যায়, সে জন্য আন্তঃকোরীয় সংলাপ ফের শুরু হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়টি।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকার সে সময় জানিয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার ওই ভবন ধ্বংসের ঘটনা ‘আইনের চোখে স্পষ্টতই অবৈধ’। ক্ষতিপূরণের দাবির ক্ষেত্রে সময়সীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ স্থগিত করার লক্ষ্যে ২০২৩ সালে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই বছরই এই সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
২০২০ সালের ১৬ জুন কেসং শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত দুই কোরিয়ার মৈত্রী বিষয়ক কার্যালয়টি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয় উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা একদল ভিন্নমতাবলম্বীর সীমান্তে প্রচারপত্র ছড়ানোর জের ধরে ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল পিয়ংইয়ং।
বিস্ফোরণের পরপরই দক্ষিণ কোরিয়া সরকার জানিয়েছিল, এর ফলাফলের যাবতীয় দায় পুরোপুরি উত্তর কোরিয়ার। ২০১৮ সালের পানমুনজম ঘোষণার অধীনে দুই দেশের মধ্যে সার্বক্ষণিক সংযোগ ও আলোচনার পথ সুগম রাখতে কেসংয়ের কার্যালয়টি স্থাপন করা হয়েছিল।
মৈত্রী কার্যালয় ভবন এবং বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অকার্যকর হয়ে পড়া পাশের একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা কেন্দ্রের ক্ষতিপূরণসহ মোট ৪ হাজার ৪৭০ কোটি ওন ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলাটি করেছিল সিউল।
তবে আইনি লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়া জিতলেও পিয়ংইয়ংয়ের এই রায়ে সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমগুলো। তাছাড়া উত্তর কোরিয়াকে এই ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করার মতো কার্যকর কোনো উপায়ও এই মূহুর্তে সিউলের হাতে নেই।
গত বছর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য নানা উদ্যোগ নিলেও দুই কোরিয়ার মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই রায় এলো।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ইতিমধ্যেই সিউলের এসব উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে পুনরেকত্রীকরণ নীতি বর্জন করেছেন এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের প্রধান ‘শত্রু রাষ্ট্র’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন।