প্রতিযোগিতায় ‘নিউজ শাপলা এক্সপ্রেস’ প্রথম, ‘চর গোবিন্দপুর’ দ্বিতীয় এবং ‘খয়রান এক্সপ্রেস’ তৃতীয় হয়েছে।
Published : 16 Sep 2026, 09:46 PM
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে তিন দিন ধরে চলা নৌকা বাইচ শেষ হয়েছে।
শেষ দিনে বাইচ দেখতে নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ পদ্মাপাড়ে ভিড় করেন।
সোমবার শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতা বুধবার শেষ হয়। এতে ১০টি নৌকা অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় ‘নিউজ শাপলা এক্সপ্রেস’ প্রথম, ‘চর গোবিন্দপুর’ দ্বিতীয় এবং ‘খয়রান এক্সপ্রেস’ তৃতীয় হয়েছে বলে জানান আয়োজক কমিটির সদস্য মেহেদী হাসান তোতা।
বুধবার দুপুরের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে কেউ হেঁটে, কেউ মোটরসাইকেল, কেউ ইজিবাইক, অটোরিকশায় করে মহেন্দ্রপুরে আসতে শুরু করেন। ভিড় ও যানজট এড়াতে খেয়াঘাট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই যানবাহন থামিয়ে দেয় পুলিশ। পরে অনেকে হেঁটে বাইচের মাঠে পৌঁছান।
বাইচের সময় নদীর পাড়ে ছিল মানুষের ভিড়। কারও হাতে মোবাইল ফোন, কেউ আবার নদীর দিকে তাকিয়ে নৌকার দৌড় দেখছিলেন। নৌকার বৈঠার ছন্দে মুখর হয়ে ওঠে পদ্মার পাড়। একটি নৌকা এগিয়ে গেলেই দর্শকদের মধ্যে উল্লাস দেখা যায়।
পাবনা থেকে নাতিকে নিয়ে বাইচ দেখতে এসেছিলেন ৬০ বছর বয়সী সোলেমান প্রামাণিক। তিনি বলেন, “নাতি বলেছিল, কোনো দিন নৌকা বাইচ দেখেনি। তাই তাকে নিয়ে এসেছি। এত মানুষ হবে, না এলে বুঝতাম না। বাইচ দেখে খুব ভালো লাগছে।”
পাংশার কসবামাঝাইল থেকে আসা খাইরুল খা বলেন, “নৌকা বাইচ দেখে খুব আনন্দ লাগছে। এখনকার ছেলেমেয়েরা এই খেলা চেনে না। এমন আয়োজনের মাধ্যমে তারা ঐতিহ্যটি জানতে পারবে। প্রতি বছর এমন আয়োজন হওয়া উচিত।”
মাগুরা থেকে বাবার সঙ্গে বাইচ দেখতে এসেছে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাপলা খাতুন। সে বলে, “আমি আগে কখনো নৌকা বাইচ দেখিনি। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। আমার বয়সী অনেকেই এই খেলা দেখেনি। প্রতিবছর এমন আয়োজন হওয়া উচিত।”
আয়োজক কমিটির সদস্য মেহেদী হাসান তোতা বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী নৌকাকে একটি করে মোটরসাইকেল এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী নৌকাকে একটি ফ্রিজ পুরস্কার দেওয়া হয়।