“প্রায় ৩০ বছর পর আল্লাহ আমাকে একটি ছেলে সন্তান দান করেছিলেন। সেই সন্তানকে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে হত্যা করেছে।”
Published : 17 Sep 2026, 03:41 PM
টাঙ্গাইলের সখীপুরে ‘মায়ের ছুরিকাঘাতে’ তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় তার আট বছর বয়সী মেয়েকেও ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা এবং পরে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে ওই মায়ের বিরুদ্ধে।
বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বড়চওনা ইউনিয়নের খালিয়ার বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে আকলিমা বেগমকে সখীপুর থানায় পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে বলে সখীপুর থানার ওসি মুরাদ হোসেন জানিয়েছেন।
নিহত তিন বছর বয়সী শিশু আশরাফুল ইসলাম ওই এলাকার গরু ব্যবসায়ী শাহীন মিয়ার ছেলে। আর আহত আট বছর বয়সী মেয়ে শিশুর নাম সিদরাতুল।
এ ঘটনায় অভিযোগের মুখে থাকা ৩৫ বছর বয়সী আকলিমা বেগম শাহিন মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ বলছে, শাহিন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমা আক্তারের সন্তান না হওয়ায় তিনি চার বছরের এক মেয়ে সন্তানসহ আকলিমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর আকলিমা একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। তবে শিশুটির বয়স যখন মাত্র ৪০ দিন, তখন থেকেই তাকে সতীন নাসিমার কাছে রেখে ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ শুরু করেন আকলিমা।
সেই থেকে সন্তানহীনা নাসিমাই পরম স্নেহে আশরাফুলকে বড় করে তোলেন। মায়ের মমতায় বড় হওয়া আশরাফুল নাসিমাকে ‘বড় মা’ আর নিজের মা আকলিমাকে ‘আন্টি’বলে ডাকত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবার রাতে পারিবারিক কলহের জেরে ঘরে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে ছেলে আশরাফুল ও মেয়ে সিদরাতুলকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন আকলিমা। পরে তিনি নিজেও ‘আত্মহত্যার’ চেষ্টা করেন।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দুই শিশুকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা
করে। পরে স্থানীয়রা আকলিমাকে বাড়ির উঠানে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে সকালে পুলিশ আকলিমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
শিশুটির বাবা শাহিন মিয়া বলেন, “প্রায় ৩০ বছর পর আল্লাহ আমাকে একটি ছেলে সন্তান দান করেছিলেন। সেই সন্তানকে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে হত্যা করেছে। এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।
“শুধু আমার সন্তানই নয়, আকলিমার আগের ঘরের মেয়ে সিদরাতুলকেও গুরুতর আহত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ওসি মুরাদ হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর শিশুটিকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। তার মরদেহ সেখানেই রয়েছে।”
তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও চিকিৎসার স্বার্থে শিশুটির মাকে সখীপুর থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।