তিতাস ২৮ নম্বর কূপ থেকে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
Published : 19 Sep 2026, 04:58 PM
২০৩০ সালের মধ্যে দেশে গ্যাসের সংকট শুন্যে নামিয়ে আনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেছেন, “ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমেই ২০৩০ সাল নাগাদ গ্যাসের সরবরাহ এবং চাহিদার মধ্যে যে বড় ধরনের একটি গ্যাপ রয়েছে, সেই গ্যাপটি আমরা পূরণ করতে সক্ষম হব বলে মনে করছি।"
শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে তিতাস ২৮ নম্বর কূপ থেকে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এলএনজি সরবরাহে এখন যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেই অবকাঠামো বাড়াবার আমরা চেষ্টা করছি যাতে প্রয়োজনীয় অনুযায়ী আমদানিকৃত এলএনজির সরবরাহও আমরা বাড়াতে সক্ষম হই।”
তিনি বলেন, “সরকার দেশীয় উৎপাদন বাড়াবার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে। আমরা বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াবার জন্য যেমন চেষ্টা করছি, তেমনি সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের সক্ষমতা বাড়াবার চেষ্টা করছি। আমরা তাদেরকে জয়েন্ট ভেনচারে আগ্রহী করবার চেষ্টা করছি। যাতে করে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আমরা স্বাবলম্বী হতে পারি।
আমদানির পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়েই গ্যাস সংকট মোকাবিলা করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় তিনগুণ অতিরিক্ত ব্যয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন এভাবে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়।
তিতাস-২৮ থেকে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় শিল্প-কারখানার উৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড-বিজিএফসিএল জানায়, তিতাস-২৮ কূপের খননকাজ গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২৭ মে শেষ হয়। এরপর ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। কূপটির গভীরতা তিন হাজার ৬০১ মিটার।
কূপটির প্রকল্প পরিচালক জসিম উদ্দিন মুন্না জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উত্তোলন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় কূপটি থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজিএফসিএল জানায়, তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপের খননকাজও চলছে। এসব কূপ চালু হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।
অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জ্বালানি সচিব জিয়াউল হক এবং বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক উপস্থিত ছিলেন।