কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার দক্ষিণ মোড়ে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
Published : 19 Sep 2026, 06:24 PM
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম বাসা থেকে আইফোন নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর পরই পরিবার নানাভাবে তাকে খোঁজার চেষ্টা করে।
তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম (যার ফেইসবুক আইডি ‘নাহিদা নাহিদ’) ছেলের নিখোঁজ বিষয়ে শুক্রবার গভীর রাতে ফেইসবুকে একটি পোস্টও দেন।
সেই পোস্টটি তার পরিচিত, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী অনেকেই শেয়ার করেন।
সেই পোস্টে নাহিদা বেগম ছেলের ছবি যুক্ত করে লেখেন, “আমার ছেলেকে আমি বিকেল তিনটা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতিম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় পরনের এই পাঞ্জাবিটা ছিল গায়ে। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসে নাই।
“আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি। ফোন নম্বর ট্র্যাক করে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ফোন ওর সঙ্গে নাই। ফেসবুক আইডি যে ফোনে সেটা বাসায় রেখে গেছে। আপডেট থাকলে জানাব। আপনারা দয়া করে চেষ্টা করেন।”
এরপর ছেলেকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও দুটি পোস্ট দেন।
শুক্রবার কুমিল্লায় বাসা থেকে আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩)।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার দক্ষিণ মোড়ে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি।
সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, অপ্রতিমের কাছে থাকা তার মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি। তাই আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন তারা।
বিকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, তারা একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ ঘটনায় কিছু ‘ক্লু’ তারা পেয়েছেন।