কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় কথা বলছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।
Published : 19 Sep 2026, 11:12 PM
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে মোবাইলে ফোনে তুহিন নামে একজন ডেকে নিয়েছিল বলে দাবি করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-সহকর্মীরা নানাভাবে তার সন্ধানে চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে অপ্রতিমের হদিশের চেষ্টা করছিলেন।
শনিবার দুপুরে দিকে যখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ অন্যরা সেই ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করছিলেন, তখনি তারা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের গহীনে অপ্রতীমের লাশ পাওয়ার খবর পান। তখন সবাই দৌড়ে সেখানে যান।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম লালমাই পাহাড়ে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের কাছে সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে দিতে বলছিলেন, “আমরা যখন সিসিটিভি ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করছিলাম তখন দেখি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটে (শুক্রবার) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে অপ্রতিমকে তার চেয়ে বড় একটি ছেলের সঙ্গে দেখা যায়। টুপি পরা। তার হাঁটাচলা কিছুটা সন্দেহজনক মনে হয়েছে। তখন আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানাই এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তার পরিচয় নিশ্চিত হই।
“তার নাম তুহিন, খুব কাছাকাছি তার বাড়ি। তখন সহকারী প্রক্টরের নেতৃত্বে একটি দল তার বাড়ির দিকে রওনা হয়। তখন সেখানকার একটি দোকানের সিসিটিভি ভিডিওতে আবার অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে, প্রধান সন্দেহভাজনকে দেখা যায়।”
উপাচার্য বলেন, “তুহিনের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা এবং তার মোবাইল তল্লাশি করে আমরা দেখতে পাই যে, তুহিনই আসলে তাকে বার বার বাসা থেকে বের হয়ে আসার জন্য বলছিল।”
শুক্রবার বিকালে কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।
বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে।
বিকালে কুমিল্লা কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মফিজ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, “অপ্রতিমের নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ভিডিও পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
“তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। দুইজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”