গবেষণার বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ১৮ বছর বা তার পরে বিয়ে করা নারীদের এই ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
Published : 07 Sep 2026, 02:34 PM
বাল্যবিয়ের নেতিবাচক প্রভাব শুধু একটি মেয়ের শৈশব বা পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। কম বয়সে বিয়ে হওয়া মেয়েদের পারিবারিক জীবনে সহিংসতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের ২০২৫ সালের এমআইসিএসের হিসাবে, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর হওয়ার আগে। এর মানে, আমাদের দেশে এখনো প্রায় প্রতি দুইজন নারীর একজন বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে।
বাল্যবিয়ের সঙ্গে দাম্পত্য সহিংসতার সম্পর্কও গবেষণায় উঠে এসেছে।
২০১৬ সালে ডেমোগ্রাফি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বাংলাদেশের ৭৭টি গ্রামের ৩ হাজার ৩৫৫ জন নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ নারী ১৮ বছরের আগে বিয়ে করেছিলেন।
একই গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ গবেষণার সময় শারীরিক দাম্পত্য সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা জানান।
গবেষণার বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ১৮ বছর বা তার পরে বিয়ে করা নারীদের এই ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
ইউনিসেফও বলছে, ১৮ বছরের আগে বিয়ে করা মেয়েরা ঘরোয়া সহিংসতার বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
আর ২০২৫ সালে ইউনিসেফ, ইউএন উইমেন ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত ‘গার্ল গোলস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের ২৮ শতাংশ গত ১২ মাসে সঙ্গীর কাছ থেকে শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে।
অর্থাৎ মেয়েদের পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকি কমাতেও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ জরুরি। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সচেতন হতে হবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: ঢাকা।