শেফালি ভার্মার ঝড়ো সেঞ্চুরিতে ভারতের সামনে দাঁড়াতেই পারল না বাংলাদেশ, সোনার পদকের আশা হারিয়ে এখন ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে নিগার সুলতানার দল।
Published : 20 Sep 2026, 02:20 PM
দুই দলের শক্তি-সামর্থ্য আর সাম্প্রতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল পাহাড়সম। সেই চ্যালেঞ্জ জয়ের কোনো তাড়না বা স্কিল, কিছুই দেখা গেল না শরীরী ভাষা কিংবা পারফরম্যান্সে। বরং অসহায় আত্মসমপৃণই মেনে নিল নিগার সুলতানার দল। ব্যাটে-বলে আরও একটি দাপুটে জয়ে সোনার পদক ধরে রাখার শেষ ধাপে পৌঁছে গেল ভারত।
এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের সেমি-ফাইনালে বাংলাদেশকে ১১৪ রানে গুঁড়িয়ে এগিয়ে গেল ভারত।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় এটি। আগের সবচেয়ে বড় জয়টি ছিল ৭৯ রানে।
দিন দশেক আগে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের সেমি-ফাইনালেও বাংলাদেশকে সহজে হারিয়েছিল ভারত। সেদিন ঝড়ো ফিফটিতে ম্যাচ-সেরা হওয়া শেফালি ভার্মা এবার নিজেকে ছাড়িয়ে যান আরও। ব্যাটিং তাণ্ডবে প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করেন তিনি ৪৯ বলে। বাংলাদেশের আশা পিষ্ট হয়ে যায় সেখানেই।
ফাইনালে মঙ্গলবার ভারতের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। গত এশিয়ান গেমসেও লঙ্কানদের হারিয়ে সোনা জিতেছিল হারমানপ্রিত কৌরের দল।
একই দিনে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। গত আসরে এই দলকে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন নিগার-নাহিদারা।
আইচির নিশানে রোববার দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ভারত ২০ ওভারে তোলে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান।
৪৯ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন শেফালি। ২২ বছর বয়সী ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস হয়ে গেল ২২টি।
বরাবরই ছক্কাপ্রিয় এই ব্যাটার এ দিন ছয় মারেন ৯টি। নারী টি-টোয়েন্টিতে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই বছরে তার ছক্কা হলো ৩৫টি। এক পঞ্জিকাবর্ষে যা সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড।
তার সঙ্গে ঝড়ো উদ্বোধনী জুটি গড়া স্মৃতি মান্ধানার জন্যও ম্যাচটি হয়ে থাকবে স্মরণীয়। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন স্টাইলিশ এই ব্যাটার।
রান তাড়ায় অনুমিতভাবেই লড়াই জমাতে পারেনি বাংলাদেশ। আরও একবার হতশ্রী ব্যাটিংয়ে গুটিয়ে গেছে তারা ৮১ রানেই।
কোরোগি স্পোর্টস পার্কে ভারত ব্যাটিংয়ে নামে টস জিতে। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল তাদের দাপট। মারুফা আক্তারের প্রথম ওভারে চার মারেন মান্ধানা। পরের ওভারে সানজিদা আক্তার মেঘলার বাঁহাতি স্পিনে ছক্কা ও চার মারেন শেফালি।
মারুফা পরের ওভারে দুটি চার আসে মান্ধানার ব্যাট থেকে। এর প্রথমটিতেই সুজি বেটসকে ছাড়িয়ে রানের তালিকায় সবার ওপরে উঠে যান ৩০ বছর বয়সী ব্যাটার।
একের পর এক বোলিং পরিবর্তন করেও লাভ হয়নি। অফ স্পিনার সুলতানা খাতুনকে চার বলের মধ্যে দুটি ছক্কায় স্বাগত জানান শেফালি। লেগ স্পিনার রাবেয়ার প্রথম তিন বলে দুই রান এলেও পরের তিন বলে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন মান্ধানা।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বাংলাদেশ অধিনায়ক আক্রমণে আনেন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার নাহিদা আক্তারকে। তাকেও ছক্কা ও চার মারেন শেফালি।
ওই ওভারের শেষ বলে ছক্কার চেষ্টায় আউট হন মান্ধানা (১৯ বলে ৩৭)। ততক্ষণে পাওয়ার প্লেতে উঠে হেছে ৭২ রান।
তিনে নেমে গুনালান কামালিনি সুবিধে করতে পারেননি। নবীন এই ব্যাটার আউট হন ১০ বলে ৩ রান করে। ওই সময়টায় একটু কমে আসে রানের গতি।
তবে শেফালি ছিলেন আপন রূপেই। নাহিদাকে ছক্কায় উড়িয়ে ফিফটি করেন তিনি ২৪ বলে।
অনেক ম্যাচেই ৫০-৬০ করে বড় শটের চেষ্টায় আউট হওয়ার নজির আছে শেফালির। কিন্তু এ দিন তিনি ছিলেন অন্যরকম। ফিফটি করে আরও এগিয়ে যান তিনি।
মন্থর শুরুর পর ক্রমে নিজেকে খুঁজে পান হারমানপ্রিত। তৃতীয় উইকেটে দুজনে ৯৪ রানের জুটি গড়েন ৫৫ বলে।
৩৩ বলে ৪০ রান করে হারমানপ্রিত স্টাম্পড হন রাবেয়ার বলে।
নাহিদার স্পেলের শেষ ওভারে টানা দুটি ছক্কার পর শেফালির রান ছিল ৪২ বলে ৯৩। শতরানের সুবাস পেয়ে একটু সাবধানী হয়ে ওঠেন তিনি। পরের সাত রান করতে বল খেলেন সাতটি। শেষ ওভারের শেষ বলে সিঙ্গল নিয়ে পা রাখেন তিনি শতরানে।
টি-টোয়েন্টিতে তো বটেই, সাদা বলের ক্রিকেটে তার প্রথম শতরান এটি। টেস্টে একমাত্র সেঞ্চুরিকে রূপ দিয়েছেন তিনি ডাবল সেঞ্চুরিতে।
দুইশ ছুঁইছুঁই রান তাড়ার সামর্থ্য বাংলাদেশের এমনিতেই নেই। তাদের ব্যাটিংয়ে দেখা যায়নি লড়াইয়ের ছাপও।
ওপেনার জুয়ায়রিয়া ফেরদৌস আলগা শটে ফেরেন প্রথম বলেই। সোবহানা মোস্তারি (৭ বলে ৪) ও নিগার সুলতানা (৯ বলে ৯) পারেননি বেশিক্ষণ টিকতে।
ওপেনিংয়ে দিলারা আক্তার ভালো কয়েকটি শট খেলেন। চারটি চার ও একটি ছক্কা আসে তার ব্যাট থেকে। তবে স্পিন আক্রমণে আসতেই আটকে যান তিনি। ২৩ বলে ২৭ করে আউট হন দীপ্তি শার্মার অফ স্পিনে।
তিনি ছাড়া দুঅঙ্ক স্পর্শ করতে পারেন কেবল ছয়ে নামা শারমিন আক্তার (২০ বলে ১০) ও লোয়ার অর্ডারে সুলতানা (৮ বলে ১২*)।
ভারতের কাছে এই নিয়ে টানা ১০ টি-টোয়েন্টি হারল বাংলাদেশ। সবশেষ জয়টি ২০২৩ সালের জুলাইয়ে মিরপুরে। দুই দলের ২৬ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে স্রেফ তিনটিতে।
ব্রোঞ্জের আশা অবশ্য করাই যায়। পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ পাঁচ টি-টোয়েন্টির চারটি জিতেছে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ১৯৫/৪ (মান্ধানা ৩৯, শেফালি ১০০*, কামালিনি ৩, হারমানপ্রিত ৪০, রিচা ২, ফুলমালি ৯*; মারুফা ৪-০-৪৩-১, মেঘলা ৪-০-২৫-১, সুলতানা ২-০-২৫-০, রাবেয়া ৪-০-৩৫-১, নাহিদা ৪-০-৪৮-১, স্বর্ণা ২-০-১৯-০)।
বাংলাদেশ: ১৫.৫ ওভারে ৮১ (দিলারা ২৭, জুয়ায়রিয়া ০, সোবহানা ৪, নিগার ৯, স্বর্ণা ৫, শারমিন ১০, নাহিদা ৪, রাবেয়া ০, সুলতানা ১২*, মারুফা ৫, মেঘলা ০; ক্রান্তি ৩-০-২০-০, নান্দিনি ৪-০-২৫-৩, শ্রী চারানি ৩-১-৭-২, শ্রেয়াঙ্কা ৩-০-২২-১, দীপ্তি ২.৪-০-৭-৩)।