বড় সংগ্রহ গড়ে আরেকটি অনায়াস জয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করল ভারত।
Published : 17 Sep 2026, 11:28 PM
আগের দুই ম্যাচে রান তাড়ায় দাপুটে জয়। শেষটায় এসে সিরিজে প্রথমবার আগে ব্যাটিং পেয়ে যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল ভারত, নির্দিষ্ট করে বললে আভিশেক শার্মা। তার রেকর্ড গড়া বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে শক্ত ভিত পেয়ে বড় সংগ্রহ গড়ল ভারত। জবাবে মুখ থুবড়ে পড়ল আফগানিস্তানের ব্যাটিং।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের জয় ১২৭ রানে। তিন ম্যাচের সিরিজ শ্রেয়াস আইয়ারের দল জিতল ৩-০ ব্যবধানে।
দিল্লিতে বৃহস্পতিবার ২০ ওভারে ভারত তোলে ২২১ রান। ৫৯ বলে ১৪২ রানের বিধ্বংসী উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর, নিয়মিত উইকেট হারানোয় তাদের সংগ্রহটা আরও বড় হয়নি।
রান তাড়ায় ১৫ ওভারের মধ্যে আফগানরা গুটিয়ে যায় স্রেফ ৯৪ রানে।
ভারতের বড় জয়ের নায়ক আভিশেক। ৩০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি, এই সংস্করণে যা ভারতের হয়ে দ্রুততম ও আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর কোনো ব্যাটসম্যানের দ্রুততম সেঞ্চুরি।
১১ ছক্কা ও ৯ চারে ৩৪ বলে ১০৮ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ওপেনার।
ম্যাচ-সেরা তো বটেই, তিন ম্যাচে ২৬৯.৪১ স্ট্রাইক রেটে ২২৯ রান করে সিরিজ-সেরার পুরস্কারও জিতেন তিনিই।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আভিশেকের ব্যাটেই উড়ন্ত শুরু পায় ভারত। দ্বিতীয় বলে চার মেরে রানের দেখা পান তিনি। এরপর রীতিমতো চার-ছক্কার বৃষ্টি নামান। ফাজাল হাক ফারুকি, মোহাম্মাদ নাবি, রাশিদ খান, মুজিব উর রাহমান, সবাইকে একের পর এক ছক্কায় ওড়ান ২৬ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি ১৬ বলে। পাওয়ার প্লেতে ভারত তোলে বিনা উইকেটে ১০০ রান, এই সময়ে আভিশেক একাই করেন ২২ বলে ৭৬। এই সংস্করণে ইনিংসের প্রথম ছয় ওভারে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রান এটি।
দশম ছক্কা মেরে আভিশেক পৌঁছে যান ৯৯ রানে। পরের বলে এক রান নিয়ে ৩০ বলে স্পর্শ করেন তৃতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি।
মাইলফলক ছুঁয়ে ব্যাট ও হেলমেট উঁচিয়ে তার চিরচেনা উদযাপন তো ছিলই, আরেকটি দৃশ্যও নজর কাড়ে সবার। মাটিতে বসে পড়ে হাঁটুর ওপর দুই হাত রেখে কিছুক্ষণের জন্য তিনি যেন হয়ে যান কোনো ‘ধ্যানমগ্ন ঋষি।’
আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়ে আভিশেকের টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি হলো মোট ১০টি, ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যা ভিরাট কোহলির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
সেঞ্চুরির পরের ওভারে রাশিদকে আরেকটি ছক্কা মেরে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। শুরুর জুটি থামে দশম ওভারে।
১১ ওভার শেষে ভারতের রান ছিল ১ উইকেটে ১৫২। সেখান থেকে আড়াইশ ছোঁয়া স্কোরে দৃষ্টি থাকার কথা তাদের। কিন্তু পরের ব্যাটসম্যানদের কেউ প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে না পারায় তা হয়নি।
আভিশেক যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন, অন্য প্রান্তে একরকম দর্শক হয়ে ছিলেন সাঞ্জু স্যামসন। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পঞ্চাশ ছুঁয়ে ৩৫ বলে ৫০ রান করে বিদায় নেন তিনি। চারটি ছক্কা ও দুটি চারে গড়া তার ইনিংসটি।
তিলাক ভার্মা দ্রুত বিদায় নেন রান আউটে। শিভাম দুবে ১০ বলে করতে পারেন ১৪ রান, ইশান কিষান ৮ বলে ১০। ব্যর্থ হন নিতিশ কুমার রেড্ডিও।
২০ বলে ২৯ রান করে শেষ ওভারে রান আউট হন শ্রেয়াস।
তিন ওভারে ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের সফলতম বোলার আজমাতউল্লাহ ওমারজাই। নাবি এক ওভার বোলিং করে দেন ২৯ রান। রাশিদ চার ওভারে ৪৩ রান দিয়ে পান একটি উইকেট।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম তিন ওভারে আফগানরা তুলে ফেলে বিনা উইকেটে ৩১ রান। তাতে ইঙ্গিত মেলে ভালো কিছুর। কিন্তু পরের ওভারে রাহমানউল্লাহ গুরবাজ ও সেদিকউল্লাহ আটালকে ফিরিয়ে তাদের জোড়া ধাক্কা দেন আকসার।
ওই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি তারা। উইকেট পড়তে থাকে নিয়মিত। ইব্রাহিম জাদরানের ২৫ ছাড়া আর কেউ ২০ পর্যন্তও যেতে পারেননি।
চার ওভারে ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার নিতিশ। লেগ স্পিনার রাভি বিষ্ণইয়ের শিকারও ৩টি, ২৬ রান দিয়ে।
আকসার তিন ওভারে কেবল ৯ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। একটি করে উইকেটের দেখা পান জাসপ্রিত বুমরাহ ও ইয়াশ ঠাকুর।
ভারতে খেলা হলেও এই সিরিজের স্বাগতিক ছিল আফগানিস্তান। নিজেদের ‘হোম’ সিরিজের খেলা আয়োজন করেছে তারা দিল্লিতে। তিন ম্যাচেই রাশিদ-নাবিরা হেরে গেলেন বাজেভাবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ২২১/৭ (স্যামসন ৫০, আভিশেক ১০৮, তিলাক ২, শ্রেয়াস ২৯, দুবে ১৪, কিষান ১০, নিতিশ ১, আকসার ৫*, বিষ্ণই ০*; ফারুকি ৪-০-৩৯-০, ওমারজাই ৩-০-২৭-২, মুজিব ৪-০-৪৫-০, নাবি ১-০-২৯-০, রাশিদ ৩৪-০-৪৩-১, আহমাদজাই ৪-০-৩৮-১)
আফগানিস্তান: ১৪.১ ওভারে ৯৪ (গুরবাজ ১৫, ইব্রাহিম ২৫, আটাল ১, রাসুলি ০, ওমারজাই ১৭, নুর ১১, নাবি ৮, রাশিদ ৬, মুজিব ০, আহমাদজাই ৬, ফারুকি ০*; নিতিশ ৪-০-২৫-৩, বুমরাহ ২-০-১৬-১, ইয়াশ ২-০-১৭-১, আকসার ৩-০-৯-২, বিষ্ণই ৩.১-০-২৬-৩)
ফল: ভারত ১২৭ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ভারত ৩-০তে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: আভিশেক শার্মা
ম্যান অব দা সিরিজ: আভিশেক শার্মা