“জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে অনিককে ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখি।”
Published : 16 Sep 2026, 12:30 PM
ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই অনিক চন্দ্র পাল সম্প্রতি ‘হতাশায়’ ভুগছিলেন বলে ভাষ্য সতীর্থ ও পুলিশের।
বংশাল থানার ওসি আশিক ইকবাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটা স্পষ্ট নয়। তবে ছেলেটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল বলে জানা গেছে।
“দীর্ঘদিন হতাশায় ভুগছিল বলেও আমরা জানতে পেরেছি। সেজন্য আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”
মঙ্গলবার রাত ০টার দিকে চাঁনখারপুল এলাকার বি কে গাঙ্গুলি লেইনের একটি ভবনের চার তলার মেস থেকে অনিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অনিকের মেসমেট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া বলেন, অনিক বেশ কিছুদিন ধরে ‘হতাশায় ভুগছিলেন’। পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি প্রেমিকার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি আরও চুপচাপ হয়ে পড়েছিলেন।
“বিচ্ছেদের পর অনিকের মোবাইল ফোন বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর থেকেই তিনি মেসে একা চুপচাপ থাকতেন।”
অনিকের লাশ উদ্ধারের বর্ণনায় জয় বলেন, সোমবার থেকেই অনিকের তেমন কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না।
“মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে অনিকের এক ব্যাচমেট আমাকে ফোন করে জানায়, তাকে কল করেও পাওয়া যাচ্ছে না। পরে আমি আরেক বন্ধুকে নিয়ে অনিকের কক্ষে যাই। অনেকক্ষণ দরজায় কড়া নাড়লেও কোনো সাড়া পাইনি।”
তিনি বলেন, “দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। পরে জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে অনিককে ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখি।
“এরপর দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে কয়েকজন বন্ধু মিলে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাই।”
রাত সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ওসি আশিক ইকবাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
“তারা এসে লিখিত আবেদন করলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।”
২১ বছর বয়সি অনিক চন্দ্র পাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুবাস পাল।
তিনি বলেন, “নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্বজনরা পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।”