মেলায় প্রায় ৩০০ স্টলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পর্যটন গন্তব্য, পর্যটন পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হচ্ছে।
Published : 17 Sep 2026, 11:06 PM
রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে তিন দিনের ‘১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার’।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বৃহস্পতিবার এ মেলার উদ্বোধন করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে মন্ত্রণালয়।
আয়োজকদের তথ্যানুযায়ী, এবার মেলায় ১০টি দেশের ২০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে। মেলায় প্রায় ৩০০টি স্টলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পর্যটন গন্তব্য, পর্যটন পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হচ্ছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “বাংলাদেশ বৈচিত্র্যময় পর্যটন সম্ভাবনার এক দেশ। আমাদের ভূখণ্ডে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন; বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার; চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়, ঝর্ণা ও হ্রদ। আর রয়েছে আমাদের মানুষের আন্তরিকতা, উষ্ণ আতিথেয়তা ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি।”
বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা কেবল কয়েকটি সুপরিচিত গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও মানুষের গল্প।
“আমাদের এখনকার লক্ষ্য, এই বিচ্ছিন্ন ও বৈচিত্র্যময় সম্ভাবনাগুলোকে একটি সুপরিকল্পিত, টেকসই এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটনশিল্পে রূপান্তর করা।”
পর্যটনের বিকাশে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ করছি, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ ও গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের পর্যটন সম্পদকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এনে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
“একই সঙ্গে কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছি। বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো, সেবা, বিনোদন এবং বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।”
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন দেশের সংস্থাগুলোর স্টল পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি কাইজার সোহেল আহমেদ, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল উপস্থিত ছিলেন।