দেশের ভবিষ্যত যে, সে কেন ভিক্ষা করে

'সে নিয়মিত স্কুলে যায়। স্কুল শেষে শহরে আসে ভিক্ষা করতে। রোজই বাড়ি ফিরতে গিয়ে রাত হয়ে যায় তার।'
দেশের ভবিষ্যত যে, সে কেন ভিক্ষা করে

ক’দিন আগেই গাইবান্ধা সদর উপজেলার পৌরপার্কে ঘুরতে গিয়েছিলাম।

সেখানে একটি ছয় বছরের কন্যা শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তি করতে দেখে মনটা ভীষণই খারাপ হয়ে গেল।

শিশুটির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি তার বাড়ি শহর থেকে বেশ দূরে বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও রোজ তাকে এখানে ভিক্ষা করতে আসতে হয়।

যদিও সে লেখাপড়াও করে, ক্লাস ওয়ানে। তার নাম হাবিবা। ক্ষুদ্র এই প্রাণটি অকালেই মা বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় সে তার মা বাবাকে হারিয়ে ফেলে। এরপর থেকে সে তার এক আত্মীয়ের কাছেই আশ্রিত। সম্পর্কে সে তার খালা হয়।

সে বলে, মূলত তার খালার স্বামীর কারণেই তাকে ভিক্ষাবৃত্তি করতে হয়। এর আগেও সে বিভিন্ন মানুষের কাছে নিজের কষ্টের কথা বলায় তার খালু তাকে অকথ্য ভাষায় বকাবকি করে। এজন্য সে আমার সঙ্গে কথা বলতেও একটু ভয় ভয় পাচ্ছিল যেন। এজন্য কোনো ছবিও তুলল না আমার সঙ্গে। এখানেও রয়েছে খালুর নিষেধাজ্ঞা।

সে নিয়মিত স্কুলে যায়। স্কুল শেষে শহরে আসে ভিক্ষা করতে। রোজই বাড়ি ফিরতে গিয়ে রাত হয়ে যায় তার।

একটি শিশু যখন কোনো কিছু বুঝতে শেখার আগেই ভিক্ষা করা শুরু করে তখন তা আমাদের জন্য লজ্জাজনক বটে।

পথে-ঘাটে চলতে গিয়ে এরকম হাজারো হাবিবার দেখা পাই আমরা। সময়ের অভাবে তাদের জিজ্ঞেস করা হয়ে ওঠে না মাঠে খেলার বয়সে তারা এভাবে ভিক্ষা করছে কেন? একটি দেশের ভবিষ্যত হিসেবে কি তাদের এসবই প্রাপ্য?

প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: গাইবান্ধা।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24
bangla.bdnews24.com