প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি থেকে শিশুদের স্কুলজীবন শুরু হয়। সাথে থাকে শ্রেণি অনুসারে নির্ধারিত বই। বড় ক্লাসে ওঠার সাথে সাথে বাড়তে থাকে বইয়ের সংখ্যা।
Published : 14 May 2016, 01:54 PM
এনসিটিবির গৃহীত তালিকা অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য তিনটি, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি করে বই দেবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষ করে কিন্ডারগার্টেনগুলো এই নিয়ম মানছে না। তারা এনসিটিবির বাইরেও অনেক বাড়তি বই চাপিয়ে দিচ্ছে শিশুদের ওপর।
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সিয়াম বলে, ‘সে রাতে তার পড়া মুখস্থ করে রাখে। কিন্তু অনেকগুলো বিষয় পড়তে হয় বলে শিক্ষক যখন প্রশ্ন করেন, তখন অধিকাংশ পড়াই সে মনে করতে পারে না’
অভিভাবক মীর জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তার ছেলের বই কিনতে গিয়ে অনেক সময় আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাও ছেলের মুখ চেয়ে কষ্ট হলেও তিনি বইগুলো কিনে দেন।
কিন্ডারগারর্টেনগুলো শিশু ও তাদের অভিভাবক উভয়ের ওপরেই চাপ সৃষ্টি করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, প্রকাশক ও দোকানের সংগে যোগসাজশ করে এসব বাড়তি বই শিক্ষার্থীদের বইয়ের তালিকায় যোগ করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক সুবিধা পায়। শিক্ষকেরও লাভের অংশ থাকে।
শিশুর কাঁধে কেন বাড়তি বইয়ের বোঝা চাপানো হবে এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক সাওন উজ্জামান বলেন, ‘এতে করে শিক্ষার্থীদের উপকার হচ্ছে’
বাড়তি বই পড়ানো হয় এমন স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা অন্য স্কুলের চেয়ে এগিয়ে থাকে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তার মতে, প্রথম প্রথম এতগুলা বইয়ের চাপ সহ্য করতে একটু সমস্যা হলেও পরবর্তীতে তারা সামলে নিতে পারে।
শৈলকুপা উত্তরণ প্রি ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক স্বপন বাগচী হ্যালোকে বলেন, ‘অনেক বইয়ের প্রকাশনী সংস্থা ও বই বিক্রেতারা টাকার বিনিময়ে তাদের বই স্কুলের সিলেবাসে যুক্ত করার অনুরোধ নিয়ে আসেন। শিক্ষকদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের সহায়ক বইও তারা উপহার দেন।
‘তাদের প্রস্তাবে রাজি হলে বই বিক্রেতারা তাদের লাভের কিছু অংশ বিদ্যালয়কে দেয়। এই জন্য স্কুলগুলোতে বইগুলো পড়ানো হয়'।
তিনি আরও বলেন, বেশি বই পড়লেই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বাড়বে এই ধারণা থেকেও কোনো কোনো অভিভাবক এসব বাড়তি বই পড়ানোয় আগ্রহী। সেটাও একটি কারণ।