হামলার পরিকল্পনায় হামলাকারী চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিল ও বিষয়টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো উচিত হলেও ওপেনএআই বিষয়টি জানায়নি।
স্যান ফ্রান্সিসকো ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় ওপেনএআই ও এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বিবাদী।
Published : 22 Sep 2026, 07:19 PM
চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা করা হলেও তা পুলিশকে না জানানোর অভিযোগে ওপেনএআই ও এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একটি স্কুলে সংঘটিত মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনায় ওপেনএআই যথাযথ পদক্ষেপ নিলে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হত এমন অভিযোগে সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে কানাডার প্রদেশটি।
হামলার পরিকল্পনায় অপরাধী চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিল ও বিষয়টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো উচিত ছিল বলে মত দিয়েছে তারা।
স্যান ফ্রান্সিসকো ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় ওপেনএআই ও এর প্রধান নির্বাহী অল্টম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
গেল ফেব্রুয়ারির সেই হামলা কাটিয়ে উঠতে এবং ভবিষ্যৎ ক্ষতি ঠেকাতে প্রদেশটির এ পর্যন্ত হওয়া ও হতে যাওয়া সব খরচের ক্ষতিপূরণের দাবি রয়েছে মামলায়।
পাশাপাশি, সহিংসতার জন্ম দিতে পারে, চ্যাটজিপিটিতে এমন কথোপকথনগুলো কোম্পানি কীভাবে পরিচালনা করে সে নীতিমালায় পরিবর্তন আনার জন্য আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজ এলাকার এক স্কুলে ঘটা ওই বন্দুক হামলায় শিশুসহ নয়জন নিহত হন।
হামলাকারী জেসি ভ্যান রুটসেলার বন্দুক সহিংসতা সম্পর্কিত কথোপকথনের কারণে কোম্পানির সেইফটি টিমের নজরে এলেও কোম্পানিটি পুলিশকে বিষয়টি জানায়নি।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ঘটনার পর স্যাম অল্টম্যান কমিউনিটির উদ্দেশ্যে একটি চিঠি প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানানোর জন্য ‘গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ’ ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
তবে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের তরফ থেকে বারবার যোগাযোগ করার পরও কোম্পানিটি সেই প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন করেনি।
মামলার তথ্য অনুসারে, যে স্কুলে হামলা হয়েছিল তা বর্তমানে ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। এ ছাড়া নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও হামলার অন্যান্য প্রভাব ঠেকাতে প্রদেশটিকে বড় অংকের আর্থিক খরচ বহন করতে বাধ্য হতে হয়েছে।
এদিকে, ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসেরাটি টাম্বলার রিজের এ হামলাকে ‘ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়, এমন ট্র্যাজেডি’ বলে বর্ণনা করেছেন।
“সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে ও আমাদের চলমান নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে ওপেনএআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ভুক্তভোগী বিভিন্ন পরিবারের আইনি পদক্ষেপ
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার করা এ মামলার আগে ওই হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ৩০টিরও বেশি পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্যরা ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে আলাদা মামলা দায়ের করেছেন।
ওই মামলায় বাদিদের অভিযোগ, হামলা ঠেকানোর একটি সুযোগ জেনেশুনে হাতছাড়া করেছে ওপেনএআই।
পুলিশের তথ্য অনুসারে, ১০ ফেব্রুয়ারি ১৮ বছর বয়সি হামলাকারী জেসি ভ্যান রুটসেলার প্রথমে নিজ বাড়িতে তার মা ও সৎভাইকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর তিনি তার সাবেক স্কুলে গিয়ে একজন শিক্ষাসহকারী ও ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সি পাঁচ শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করেন এবং পরবর্তীতে নিজেই নিজের জীবনাবসান করেছেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে কথা বলা ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ হুইসেলব্লোয়ার বা গোপন তথ্য ফাঁসকারীর সূত্র ধরে মামলায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে রুটসেলারের আলাপের বিষয়টি কোম্পানির নজরে এসেছিল।
ওই সময় সেইফটি টিমের সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিলেও অল্টম্যান ও ওপেনএআইয়ের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব তা নাকচ করে দিয়েছিলেন।
ঘটনার পর ওই হামলাকারীর অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হলেও তিনি সহজেই নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে আবার প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে তার হামলার পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে পেরেছেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রতিবেদন প্রকাশের পর কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ‘সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রসারে আমাদের মডেলের অপব্যবহার’ চিহ্নিতকারী বিভিন্ন সিস্টেম অ্যাকাউন্টটি শনাক্ত করেছিল।
তবে সে ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ মানদণ্ডের সঙ্গে মেলেনি।
ফ্লোরিডার আইনি লড়াই
গেল বছর ‘ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটি’তে সংঘটিত বন্দুক হামলার ঘটনা সংশ্লিষ্ট মামলাসহ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চ্যাটজিপিটি সহিংসতার পথ সুগম করেছে এমন অভিযোগে মার্কিন অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়েরের ধারাবাহিকতায় নতুন মামলাটি যোগ হল।
এর আগে, জুনে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা প্রথম অঙ্গরাজ্য হয় ফ্লোরিডা। ওই সময়ে মামলায় কোম্পানিটির বিরুদ্ধে চ্যাটজিপিটির নিরাপত্তার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ফ্লোরিডার দাবি, প্ল্যাটফর্মটি স্কুল হামলাকারীদের তথ্য সরবরাহ, কারো জীবনাবসানের মতো প্ররোচনা ও তরুণ ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তোলার মাধ্যমে শিশুদের ক্ষতি করছে।
এদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওপেনএআই বলেছে, তারা তাদের এআই মডেলগুলোকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেয় যাতে ‘সহিংসতাকে অর্থবহ করে তুলতে পারে’, এমনসব অনুরোধ বাতিল করতে পারে।
পাশাপাশি, আলাপে ‘অন্যের ক্ষতির আসন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য ঝুঁকি’ দেখা গেলে কোম্পানিটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানাবে।