আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন ২০১৪ বিশ্বকাপের নায়ক ও কলম্বিয়ার ইতিহাসের সেরা ফুটবলারদের একজন।
Published : 16 Sep 2026, 09:45 AM
ক্যারিয়ার অস্তাচলে পৌঁছে গিয়েছিল বেশ আগেই। এবার একটা অধ্যায় ডুবিয়েই দিলেন হামেস রদ্রিগেস। ২০১৪ বিশ্বকাপের নায়ক, কলম্বিয়ার সর্বকালের সেরা ফুটবলাদের একজন, অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া তারকাকে আর দেখা যাবে না জাতীয় দলের জার্সিতে।
ক্লাব ফুটবলে সম্প্রতি তিনি ১৮ বছর পর ফিরেছেন দেশের ফুটবলে। কিন্তু দেশের হয়ে আর দেখা যাবে না তাকে। সামাজিক মাধ্যমে মঙ্গলবার বিদায়ের ঘোষণা দেন ৩৫ বছর বয়সী তারকা।
“আজ আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই হৃদয় থেকে। বহু বছর, অনেক ম্যাচ, আনন্দ এবং কঠিন মুহূর্তের পর, আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় শেষ করার সময় এসেছে; কলম্বিয়ার জাতীয় দলে আমার এই যাত্রা...।”
১৯ বছর বয়সে ২০১১ সালে জাতীয় দলে প্রথম পা রাখেন তিনি। অভিষেক ম্যাচেই বলিভিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে দলকে জেতানো গোল করে তিনি ম্যান অব দা ম্যাচ হন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন তিনি।
ক্লাব ফুটবল ও দেশের হয়ে কখনও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, কখনও উইঙ্গার হিসেবে খেলতে দেখা গেছে সৃষ্টিশীল এই ফুটবলারকে।
খ্যাতির শিখরে পৌঁছে যান তিনি ২০১৪ বিশ্বকাপে। কলম্বিয়াকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে নেওয়ার সেই আসরে অসাধারণ ফুটবল খেলে গোটা বিশ্বের নজর কাড়েন। সেবার পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন এবং ম্যাচের পর ম্যাচ অসাধারণ পারফরম্যান্স মেলে ধরেন। টুর্নামেন্টের সেরা একাদশে জায়গা পান তিনি।
শেষ ষোলোয় উরুগুয়ের বিপক্ষে তার চোখঁধানো ভলির গোলটি শুধু দলকেই জেতায়নি, ওই বিশ্বকাপের সেরা গোলও নির্বাচিত হয় সেটি। পরে সেই গোল ওই বছরের ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ডও জিতে নেয়। বিশ্বকাপের পরই মোনাকো থেকে তাকে দলে নেয় ইউরোপের সফলতম ক্লাব রেয়াল মাদ্রিদ।
পরে ২০১৮ ও ২০২৬ বিশ্বকাপও খেলেন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি কলম্বিয়া। তার নেতৃত্বে ২০২৪ কোপা আমেরিকায় ফাইনালে ওঠে কলম্বিয়া। সেখানে তারা হেরে যান আর্জেন্টিনার কাছে। গত ৭ জুলাই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারের হারের ম্যাচটিই হয়ে থাকছে তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
সব মিলিয়ে ১৩১ ম্যাচ খেলেছেন দেশের জার্সিতে, কলম্বিয়ার হয়ে যেটি রেকর্ড। তার ৩১ গোল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, ৪৩ অ্যাসিস্ট দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
দীর্ঘদিন কলম্বিয়ার ১০ নম্বর জার্সি পরার সম্মান তিনি পেয়েছেন। বিদায় বেলায় বললেন, দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন ও গৌরবকে তিনি ধারণ করেছেন এই পথচলায়।
“এই জার্সি গায়ে চাপানো ছিল একটা স্বপ্ন, একই সঙ্গে এক বিশাল দায়িত্বও। প্রতিবার মাঠে নামার সময় বুঝতাম যে, শুধু আমার নিজের জন্য খেলছি না। আমার পরিবার, সতীর্থ এবং লাখ লাখ কলম্বিয়াবাসীর জন্য খেলছি, যারা আমাদের সবার স্বপ্ন দেখত।
১০ নম্বর জার্সি এবং অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরার সম্মান আমার হয়েছিল। সেই সম্মান, দায়িত্ব এবং কলম্বিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার অর্থ কী, তা বুঝেই কাজটা করার চেষ্টা করেছি সবসময়। আমার ভালো দিন গেছে, খুব কঠিন দিনও গেছে, কিন্তু জার্সির জন্য গর্ববোধ করা কখনও থামাইনি। এখন শান্তভাবেই বিদায় নিচ্ছি, কারণ সবসময় নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। প্রতিটি মুহূর্তের জন্য ধন্যবাদ, ধন্যবাদ কলম্বিয়া”
ক্লাব ফুটবলে পোর্তো, মোনাকো, রেয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ ও এভারটনে খেলা ফুটবলার গত কয়েক বছরে অস্থির সময় কাটিয়ে নিজেকে খুঁজে ফিরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা ইউনাইটেড ছেড়ে কিছুদিন আগে নাম লিখিয়েছেন দেশের ক্লাব আতলেতিকো নাসিওনালে। ২০২০ সালে রেয়াল মাদ্রিদ অধ্যায় শেষ হওয়ার পর সাত মৌসুমে তার অষ্টম ক্লাব এটি।