টানা তিনটি বিশ্বকাপে খেলতে না পারা দলটিকে আবার উপযুক্ত স্থানে ফেরানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে পুরোনো দায়িত্বে নতুন করে ফিরছেন কোচ রবের্তো মানচিনি।
Published : 22 Sep 2026, 01:01 PM
দেশের ফুটবলের ভাবমূর্তি একদম তলানিতে। একসময়ের পরাশক্তিরা এখন অতীতের কঙ্কাল। রবের্তো মানচিনির হাত ধরে একসময় সোনালি সময় ফেরার আভাস মিলেছিল, কিন্তু তিনিও আচমকা চলে গিয়েছিলেন দল ছেড়ে। সেই দল পরে ব্যর্থ হয় বিশ্বকাপে পৌঁছতে। সব মিলিয়ে ইতালির সমর্থকদের ক্ষুব্ধ হওয়ার অনেক কারণই দেখেন মানচিনি। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই আবার তাদের মন জয় করার প্রত্যয় শোনালেন ইতালি কোচ।
মানচিনির কোচিংয়েই ২০২১ ইউরো জয় করেছিল ইতালি। যদিও পরে তার কোচিংয়েই ২০২২ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয় দলটি। তবু তার ওপর ভরসা করেই এগোচ্ছিল ইতালির ফেডারেশন। কিন্তু ২০২৩ সালে হুট করেই তিনি ইতালির দায়িত্ব ছেড়ে দেন। কদিন পর দায়িত্ব নেন সৌদি আরবের প্রধান কোচের। ‘টাকার লোভেই’ নিজ দেশের দায়িত্ব ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমিয়েছেন বলে ইতালিতে তার সমালোচনা হয়েছিল প্রবল।
ইতালি পরে ২০২৬ বিশ্বকাপেও খেলতে পারেনি। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা অবিশ্বাস্যভাবে টানা তিনটি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
মানচিনির সৌদি আরব অধ্যায়ও সুখকর হয়নি। চার বছরের মেয়াদে দায়িত্ব নিলেও সেখান থেকে তাকে বিদায় নিতে হয় ১৪ মাসেই। পরে কাতারের ক্লাব আল-সাদ হয়ে সম্প্রতি আার ফিরেছেন ইতালির দায়িত্বে। মাস দুয়েক আগে তাকে দায়িত্বে ফেরানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও পুরোনো দায়িত্বে তার নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে সামনের নেশন্স লিগের ম্যাচগুলি দিয়ে।
তিন বছর আগে ইতালির দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার কারণে সমর্থকেরা এখনও তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন, এই বাস্তবতা অকপটে স্বীকার করছেন মানচিনি নিজেই। পারফরম্যান্স দিয়েই আবার ভরসা ফিরে পেতে চান তিনি।
"আমি (২০২১ ইউরো জয়ের) কোনো কৃতিত্বের দাবিদার নই, কারণ ওটা অতীতের ঘটনা, এখন এর কোনো মূল্য নেই।
আমি মনে করি, যখন কোনো সমর্থক প্রতারিত বোধ করেন, তখন তার হতাশ হওয়ার অধিকার আছে এবং আপনাকে তা মেনে নিতে হবে। আমি মনে করি, তাদের মন জয় করতে হলে আমাদের ভালো খেলতে হবে এবং জাতীয় দলকে তার যোগ্য স্থানে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলেই কেবল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
ঘরের মাঠে শুক্রবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এই দফায় কোচ হিসেবে মানচিনির পথচলা। তিন দিন পর ইতালি খেলবে তুরস্কের বিপক্ষে। এরপর ২ অক্টোবর ফ্রান্সের বিপক্ষে এবং ৫ অক্টোবর আবারও তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ।
এই ম্যাচগুলির জন্য ৩৪ ফুটবলারকে দলে ডেকেছেন মানচিনি। তাদের মধ্যে অভিজ্ঞ অনেকে যেমন আছেন, ২০২১ বিজয়ী দলের কয়েকজন আছেন, তেমনি আছেন তরুণ অনেকও। অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা আট ফুটবলার আছেন স্কোয়াডে।
ভবিষ্যতে তাকিয়েই তরুণদের অন্তর্ভুক্তিকে জরুরি মনে করেন মানচিনি।
“আমার মনে হয় তরুণ খেলোয়াড় থাকাটা সঠিক, যাতে আমরা তাদের সম্পর্কে সরাসরি জানতে পারি। ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী দল গড়ার জন্য এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগামী চার বছর কারা আমাদের সঙ্গে থাকতে পারে, তা দ্রুত বুঝতে হবে।
অনেক তরুণ ফুটবলার আছে, যারা আগে এখানে ছিল না, যারা প্রথমবারের মতো এখানে এসেছে। তারা এখানে এসে খুব খুশি এবং জাতীয় দলের জন্য নিজেদের সর্বস্ব দিতে চায়।”
প্রত্যয়ী কণ্ঠে মানচিনি শোনালেন, তার এবারের মেয়াদেও বড় কোনো ট্রফি জিতবে ইতালি।
“আমি এমন একটি দল চাই যারা আধিপত্য বিস্তার করবে, ভালো খেলবে এবং সবসময় নিজেদের সেরাটা দিতে পারবে। এটা তো পরিষ্কারই যে, সবসময় জেতা যায় না। কিন্তু আমরা এভাবেই শুরু করার চেষ্টা করব, এভাবেই জিততে হয়। আমরা সবাই খুব আশাবাদী।
আমি জানি, আগামী চার বছরে আমরা দেশে কিছু একটা নিয়ে আসব। আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত, কারণ আমি ফুটবল খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানি, তাই আমি দেখতে পাচ্ছি যে তাদের প্রতিভা আছে এবং তাদের শুধু খেলার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।”
নেশন্স লিগের বর্তমান চক্রের ফাইনাল হবে আগামী বছর। ২০২৮ সালে আছে ইউরো, যেটির ফাইনাল হবে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে, যেখানে ২০২১ ইউরো জিতেছিল ইতালি।