২০১৮ সালের ৯ মে রাত থেকে হাসান নিখোঁজ হন। চারদিন পর আখক্ষেত থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
Published : 16 Sep 2026, 04:01 PM
ফরিদপুর শিশু পার্কের এক অস্থায়ী কর্মচারী হাসান শেখকে হত্যার দায়ে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার দুপুরে স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এই রায় দেন বলে জানিয়েছেন আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী শাহ মো. আজিজুর রহমান বিকু।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, শাহজাহান মাতুব্বর (৩৬), ফারুক শেখ (৩৫), চান্দু শেখ (২২) ও ফরিদা বেগম (৩০)। তারা সবাই জেলার সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বাসিন্দা।
এদের মধ্যে ফরিদা বেগম পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিচারক।
সাজাপ্রাপ্ত অন্যরা রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন; পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহারের বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী আজিজুর রহমান বিকু বলেন, ভিকটিম হাসান শেখ (৩৫) ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ী চাকুরীর পাশাপাশি কৃষি কাজ করতেন। ২০১৮ সালের ৯ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশি শাহজাহান ডেকেছেন জানিয়ে বলে বাড়ি থেকে বের হন।
কিন্তু পরে বাড়িতে না ফেরায় সকাল থেকে তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে পরিবার। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি স্থানীয় থানায় জিডি করে পরিবার।
নিখোঁজের চারদিন পর ঝাউখোলা এলাকার আখক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণি থেকে রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, হাসানকে হত্যার চার-পাঁচ মাস আগে প্রতিবেশি কয়েক যুবকের সঙ্গে তার গন্ডগোল হয়েছিল। তখন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণমান্যদের মাধ্যমে সালিশি বৈঠকে ওই যুবকদের শাস্তি দেওয়া হয়। এই ক্ষোভ থেকেই সেদিন রাতে হাসানকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়।
আজিজুর রহমান বিকু বলেন, পূর্র্বশত্রুতার জের ধরে হত্যার দায়ে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্র্থদণ্ড অনাদায়ে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দিয়েছে আদালত।
এছাড়া একই মামলার অপর এক ধারায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদেরকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
হাসান হত্যার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন এ আইনজীবী।