স্কটল্যান্ড পুলিশ এ হামলার খবর পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
Published : 18 Sep 2026, 01:29 AM
সিগারেট না দেওয়ায় স্কটল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্লাসগো শহরে এক বাংলাদেশি যুবককে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছে এক শেতাঙ্গ। গ্লাসগো সিটি সেন্টারের সামনে প্রকাশ্যে মারধরের সময় ওই যুবক সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও তাকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি।
গ্লাসগো শহরের কিলারমন্ট স্ট্রিট/সচিহল স্ট্রিট এলাকায় একটি সুপারশপের সামনে গত বুধবার স্থানীয় সময় সকালে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার ২৭ বছর বয়সি ইফতেখার উল-ইসলাম একে ‘বর্ণবাদী’ হামলা আখ্যা দিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করবেন বলেছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ইফতেখার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গ্লাসগো লাইভকে বলেন, তিনি শহরের এয়ারড্রি এলাকার বাসিন্দা। গত বুধবার সকাল ৭টার কিছু আগে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার সুবিধার্থে তাকে তার স্ত্রী কিলারমন্ট স্ট্রিট/সচিহল স্ট্রিট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে যান। সেখানে সেইন্সবারি নামে একটি সুপারশপের সামনে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন তিনি। এ সময় অপরিচিত এক স্কটিশ ব্যক্তি এসে তার কাছে একটি সিগারেট চান।
কিন্তু ইফতেখারের কাছে কোনো বাড়তি সিগারেট ছিল না। এরপর ওই ব্যক্তি তাকে একটি পানীয় কিনে দিতে বলেন। কিন্তু ইফতেখার তাকে বলেন, তার কাছে কোনো নগদ টাকা নেই। এর কিছুক্ষণ পরেই মার্জিত পোশাক পরা ওই দুষ্কৃতকারী আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করে।
ইফতেখারের ভাষ্য, তিনি সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে লোকটি পিছন থেকে তার ব্যাকপ্যাকটি ধরে ফেলে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই বাংলাদেশি বলেন, “সে বলে, আমি তোকে মারতে চাই এবং আমি পুলিশ ডাকার হুমকি দিই। আমি বুঝতে পারছিলাম সে সহিংস হয়ে উঠছে, তাই আমি তার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করি। সে পেছন থেকে আমার ব্যাকপ্যাক ধরে ফেলে এবং আমাকে নাক ও মাথায় কিল-ঘুষি মারতে থাকে। সে সময় আমার নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল ও মাথা ঘুরছিল। আশেপাশে কয়েকজন লোক ছিল এবং আমি সাহায্যের জন্য চিৎকার করেছিলাম, কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।
“আমি খুব ভয়ে ছিলাম, কারণ আমি জানতাম না তার কাছে কোনো ছুরি বা অস্ত্র আছে কি না। আমি মাটিতে পড়ে যাইনি, যা আমার জন্য ভালো ছিল। কারণ মাটিতে পড়ে গেলে যে কোনো কিছু ঘটতে পারত। তার কাছে কোনো অস্ত্র থাকলে আমি হয়ত আজ আর নিঃশ্বাস নিতাম না।”
গ্লাসগো লাইভের খবরে বলা হয়, হামলার পর ইফতেখার হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা বলেছেন, তার নাকের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে। এটি ঠিক হওয়ার জন্য তাকে অন্তত ১০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
ইফতেখারের মতে, বর্ণবাদী উদ্দেশ্যে চালানো এই হামলার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। এই ভিডিও তিনি স্কটল্যান্ড পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবেন।
তিনি বলেন, “আমি চেয়েছিলাম পুলিশ যেন তাকে (হামলাকারী) ঘটনাস্থলেই গ্রেপ্তার করে। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই সে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে স্কটল্যান্ড পুলিশের এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা সচিহল স্ট্রিট এলাকায় এক ব্যক্তির ওপর হামলার খবর পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।