চালু হলো নাইন ইলেভেন মেমোরিয়াল জাদুঘর | hello.bdnews24.com
বিশ্বজুড়ে

আর্শিয়ানা নওশীন বিনতে মাহবুব (১৪), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে

Published: 2014-05-22 15:39:28.0 BdST Updated: 2014-05-24 13:50:43.0 BdST

টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের স্মরণে নিউইয়র্ক শহরের ট্রিনিটি স্ট্রিটের গ্রাউন্ড জিরোতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে 'নাইন ইলেভেন মেমোরিয়াল জাদুঘর' নামে একটি জাদুঘর তৈরি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একজন করে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ঠিক নীচেই আট তলা ভবনের জাদুঘরটি করা হয়েছে।

জাদুঘর শুরুর দিনেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। প্রথম দিনের বেশির ভাগ টিকিটিই কিনে নেয় নানা কোম্পানী।

এটা প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ মুখেই বক্স অফিস। ওই বক্স অফিস থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়।

টিকিটের মূল্য ২৪ ডলার। ৬৫ বছরের উপরে যাদের বয়স তাদের ১৮ ডলার, মার্কিন কলেজ ছাত্রছাত্রীদের জন্য ১৮ ডলার, ৭-১৭ বছর বয়স হলে ১৫ ডলার। আর নাইন ইলেভেনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ওই সময়ে যারা উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন তাদের জন্য প্রবেশ ফ্রি করা হয়েছে।

তবে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে এখানে ঢুকতে টিকিট লাগবে না। এছাড়া অন্যদিনে টিকিট লাগবে।

২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিশ্ব বানিজ্য কেন্দ্রের দুটি ভবন।  মারা যান ২৯৮৩ জন। পরে ওই ভবনটি দুটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপাশেই বানানো হয় ফ্রিডম টাওয়ার।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবন ভেঙে সেখানে তৈরি করা হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ভবনের জন্য আলাদা আলাদা জলপ্রপাত।

নানা দেশ থেকে দর্শনার্থীরা সেখানে আসেন। নাইন ইলেভেনের সেই সব স্মৃতি মনে করেন। অনেকেই চোখের জল ফেলেন।

বিমান হামলার ঘটনায় নিহদের আত্মার শান্তির জন্য এটা তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশটাই সেখানে অন্য রকম। নতুন করে গাছ লাগানো হয়েছে। সবগুলো গাছের সাইজ একই সমান। সেখানে এখন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। মার্কিন পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। মহিলা পুলিশও রয়েছে। দর্শনার্থী যারা আসছেন তাদেরকে নানা রকম তথ্য দিচ্ছেন।

মেমোরিয়াল পুলে ও পার্কে যাওয়ার জন্য কোন টাকা লাগে না। এটা সবার জন্য খোলা।

সেখানে দেশলাই, লাইটার, ছুরি, চাকু, পিস্তল, বন্দুক, কিংবা কোন ধরণের অস্ত্র জাতীয় জিনিস নিয়ে যাওয়া যাবে না। পুরো এলাকাটি সার্ভিলেন্স ক্যামেরায় বন্দি। এমনকি সেখানে কোন কিছু ফেলা যায় না। বলা আছে সেখানে ব্যবসার স্বার্থে কোন ভিডিও করা যাবে না।

এছাড়াও আরো অনেক নিয়ম রয়েছে। তবে যে কেউ যতক্ষণ খুশী সেখানে বসে থাকতে পারেন। আর শ্রদ্ধা জানাতে পারেন ওই সব ব্যক্তিদের যারা সেখানে প্রাণ দিয়েছেন।

প্রবেশ মুখেই নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একটা জায়গা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

জাদুঘর ঘুরে দেখা গেল অনেকেই এসেছেন। জাদুঘরের সব জিনিসগুলো দেখছেন।

জাদুঘর উন্মুক্ত করার ব্যাপারে সেখানে বলা হয়েছে নাইন ইলেভেনের ডেডিকেশন পিরিয়ড শেষ হয়েছে। আর এই কারণেই এখন এটা জাদুঘর করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।  

১৯৯৩ সালেও এখানে একবার বোমা হামলা করা হয়েছিল। এ হামলায় ছয় জন নিহত হন।

যারা ২০০১ ও ১৯৯৩ সালে মারা গেছেন তাদের সবার নাম মেমোরিয়াল পুলের পাশে ব্রঞ্জ প্যানেলে লেখা আছে।

এটা দেশের একটি প্রধান ইন্সটিটিউশন নাইন ইলেভেন নিয়ে গবেষনা করবে ও এই ঘটনা কি প্রভাব ফেলেছে তা বের করবে।

এই মেমোরিয়াল পুলে ঢুকলেই পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা। এছাড়াও ইনফরমেশন বুথ রয়েছে। তা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যাবে।

নিহতদের ছবি ও প্রোফাইলও দেয়া রয়েছে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত