কমাতে হবে প্লাস্টিকের ব্যবহার

জলবাযুর পরিবর্তনে ভুমিকা রাখা বিভিন্ন উপাদানগুলোর মধ্যে প্লাস্টিক একটি।
কমাতে হবে প্লাস্টিকের ব্যবহার

প্রায় সকল ক্ষেত্রেই আমাদের দেশে প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। অনেকেই কাঠের পরিবর্তে প্লাস্টিকের আলমারিও ব্যবহার করে।

দেশ জুড়ে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি ও সংকটের এই সময়ে আরো একটি প্রস্তাব বেশ জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে তা হলো খোলা তেল বিক্রির পরিবর্তে সমস্ত তেল বোতলজাত করে বিক্রি করা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর ফলে প্লাস্টিক বোতলের ব্যাবহার আরো বৃদ্ধি পেয়ে পরিবেশ ও মানব দেহের যে ক্ষতি হবে তার প্রতিকার কী ?

দ্য গার্ডিয়ান সম্প্রতি তার এক প্রতিবেদনে মানুষের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ শনাক্তের খবর দিয়েছে। এবং এই দূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। পত্রিকাটি এক গবেষণার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের তুলনায় শিশুদের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে প্রায় দশ গুণ বেশি। প্লাস্টিকের বোতলে খাওয়ানোর ফলে প্রতিদিন লক্ষ  লক্ষ মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শিশুদের শরীরে জমা হচ্ছে। যার ফলাফল হলো বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ শিশুর অকাল মৃত্যু।

তাছাড়া, অষ্ট্রেলিয়ার ওয়ার্ল্ড ওয়াইজ ফান্ড ফর নেচারের ( ডাব্লিও ডাব্লিও এফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০৫০ সালের মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ হতে বায়ুমণ্ডলে ২.৮০ বিলিয়ন টন গ্রিনহাইজ গ্যাস জমা হতে পারে, যা জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিকর ভূমিকা রাখবে।

বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় বাংলাদেশে মাথাপিছু প্লাস্টিকের ব্যবহার দিনদিন বাড়ছে। ২০০৫ সালে শহর অঞ্চলে যা ছিল বার্ষিক মাথাপিছু ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পরিমাণ ছিল তিন কেজি, তা ২০২০ সালে এসে দাঁড়িয়েছে নয় কেজিতে। যার একটি বড় অংশই ফেলা হয় জমি, জলাশয় কিংবা নদীতে।

উক্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে ২০২০ সালে ব্যবহৃত ৯৭৭০০০ টন প্লাস্টিক সামগ্রীর মধ্যে মাত্র ৩১ শতাংশ পুনর্ব্যবহ্নত হয়েছিল। আর ৬৯ শতাংশই রয়ে গেছে ব্যবস্থাপনার বাইরে।

তাহলে নতুন করে যদি ভোজ্য তেলে প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করা হয় তাহলে সেটা কি পরিবেশের জন্য আরো ক্ষতির হবে না?

২০১৮ সালে সিএনএন কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় পৃথিবী জুড়ে যত প্লাস্টিক বোতল উৎপন্ন হয় মাত্র নয় শতাংশ পুনর্ব্যবহার হয়ে থাকে।

২০০২ সালে পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশই প্রথম পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করে। অথচ এবারের ঈদযাত্রায় দেখলাম রাস্তাঘাট, বিভিন্ন যানবাহন ও তার স্টেশন, বিনোদন কেন্দ্রসহ নানান স্থানে প্লাস্টিক বর্জ্যের ছড়াছড়ি। এ বিষয়ে আইনের প্রয়োগ চোখেই পড়ে না।

তাই পরিবেশ, জলবায়ু ও আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে নতুন করে প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধির আগে এর ক্ষতিকর দিক ভেবে দেখা জরুরী।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24-web.quintype.io