বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে সবাইকে | hello.bdnews24.com
অন্য চোখে

জাহাঙ্গীর আলম (১৭), লালমনিরহাট

Published: 2021-08-29 22:26:06.0 BdST Updated: 2021-08-29 22:26:06.0 BdST

বাল্যবিয়ে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে প্রায়শই দেখতে পাই বাল্যবিয়ের ঘটনা। 

প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করে থাকে অভিভাবকরা। ভুয়া জন্ম সনদ তৈরি তার মধ্যে অন্যতম। গ্রামে মেয়েদের প্রতি অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গির আগের তুলনায় পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু আমূল-পরিবর্তন যে হয়েছে তা আমি বলব না। 

তাদের অনেকেই এখনো মেয়েদের পরিবারের বোঝা মনে করেন। পড়াশোনা করলেও মেয়েদের বেশি পড়ার দরকার নাই, এমন দৃষ্টিভঙ্গিও আছে তাদের। আবার কেউ কেউ মনে করে পড়ুক একটু, কিন্তু চাকরি করতে পারবে না। বিয়েই মেয়ের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে।

আমি এমন মানুষও দেখেছি তারা মনে করেন, পড়াশোনার পেছনে যে টাকা খরচ হবে সেটা খরচ না করে মেয়ের বিয়েতে খরচ করবেন। এই খরচটা যে একটা বিনিয়োগ, এটাই যে মেয়েটাকে আত্মনির্ভরশীল করতে পারে ওদিকটা তারা ভাবতে চান না। 

যেহেতু বাল্যবিয়ে একটি আইন বিরোধী কাজ তাই অভিভাবকেরা নানা অপকৌশলের আশ্রয় নেন। বাল্যবিয়েকে বৈধ করতে মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পরীক্ষা দেওয়ার সময়ই সনদে তার বয়স বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কেউ এটা করতে ভুলে গেলে জেএসসি পরীক্ষার সময় বয়স বাড়িয়ে দেন। এগুলো আমার নিজের চোখে দেখা।

আরেকটি বিষয় আমি লক্ষ্য করেছি, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বাল্যবিয়েতে সাহায্য করেন। তাদের তত্বাবধানেই বাল্যবিয়ের ঘটনা দেখেছি। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা হয়ত মনে করেন দিনশেষে জনগণের ভোটই প্রয়োজন হবে, তাদেরকে একটু খুশি করলে মন্দ কী! যে সরষে দিয়ে ভূত তাড়াব, সে সরষেতেই যখন ভূত তখন আর কী করার থাকে। তারা যদি একটু শক্ত অবস্থান নিতেন তাহলে বাল্যবিয়ের ঘটনা আরও কমে যেত বলে আমি মনে করি।

কাজীদেরও অনেকে এ ধরনের অন্যায় করে থাকেন। বয়স বাড়িয়ে তারা বিয়ের ব্যবস্থা করে দেন। এতে তাদের পকেটও ভারি হয়। তারাও যদি দেশের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই অপরাধকে শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতেন তাতেও সুফল আসত।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত