পুঠিয়ার সেই রাজবাড়ি (ভিডিওসহ) - hello
অন্য চোখে

রেহানুজ জামান (১৭), ঢাকা

Published: 2021-03-13 18:30:19.0 BdST Updated: 2021-03-13 18:32:15.0 BdST

বইয়ে পড়েছিলাম রাজশাহীর পুঠিয়ার রাজবাড়ি সম্পর্কে। ইচ্ছে ছিল সেখানে যাওয়ার। অবশেষে পরিবারের সাথে সেখানে ঘুরে এলাম।

রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় অবস্থিত স্থাপনাটি রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের মধ্যে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি অন্যতম। ১৮৯৫ সালে মহারানি হেমন্তকুমারী দেবী ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য রীতিতে আয়তাকার দ্বিতল রাজবাড়িটি নির্মাণ করেন।

সপ্তদশ শতকে মুঘল আমলে জনৈক নীলাম্বর সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ‘রাজা’ উপাধি লাভ করার পর পুঠিয়া রাজবাড়ি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

ভবনের সামনে স্তম্ভ, অলংকরণ, কাঠের কাজ, কক্ষের দেয়ালে ও দরজার ওপর ফুল ও লতাপাতার চিত্রকর্ম চমৎকার নির্মাণশৈলীর পরিচয় বহন করে। এর ছাদ সমতল, ছাদে লোহার বিম, কাঠের বর্গা এবং টালি ব্যবহৃত হয়েছে।

একাধিক সুদৃশ্য ইমারত নির্মাণসহ জলাশয় খনন করেন। রাণী ভূবনময়ী বিশাল একটি জলাশয়ের সম্মুখে ভূবনেশ্বর শিবমন্দির নির্মাণ করেন। এটি পঞ্চরত্ন শিবমন্দির নামেও খ্যাত।

বাংলাদেশে বিশালাকারের সুউচ্চ ও বহু গুচ্ছচূড়া বিশিষ্ট শিবমন্দিরগুলোর মধ্যে পুঠিয়ার পঞ্চরত্ন শিবমন্দিরটি স্থাপত্যশৈলীতে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান একটি স্থাপত্য নির্দশন।

পুঠিয়ায় অন্যান্য নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে চৌচালা গোবিন্দমন্দির, পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দির, দোল মন্দির বা দোলমঞ্চ, দোচালা ছোট আহ্নিক মন্দির, জগদ্বাত্রী মন্দির, রথ মন্দির ইত্যাদি। পুঠিয়ার জমিদারগণ অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীতে এই মন্দিরগুলি নির্মাণ করেছিলেন।

দুই ঘণ্টার মতো ছিলাম আমরা এই রাজবাড়িতে। পুরোটা সময় আমরা অবলোকন করেছি এর সৌন্দর্য। আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের জন্য ছিল এটি ভালো লাগার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত