মহামারিতে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন (ভিডিওসহ) - hello
অন্য চোখে

অহনা আনজুম (১৫), ঢাকা

Published: 2020-10-09 01:29:08.0 BdST Updated: 2020-10-09 01:29:08.0 BdST

করোনাভাইরাস মহামারিতে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান।

শিশু-কিশোররা পড়েছে দীর্ঘ অবসরের ফাঁদে। আমার অনেক বন্ধুই বলছে তারা অস্বস্তি আর বিমর্ষ পরিস্থিতিতে আছে। মনে পড়ছে বন্ধুদের, মনে পড়ছে শ্রেণিকক্ষ আর শিক্ষকদের।

স্বাস্থ্যহানীর কথা ভেবে খেলার মাঠে যাওয়া হয় না, বন্ধু বা স্বজনরাও একে অন্যের বাড়িতে যাওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। গান, নাচ কিংবা অঙ্কন শেখার ক্লাসও বন্ধ আছে। প্রয়োজনে বড়রা বের হলেও ছোটদেরকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। চারদিকে যেন এক গুমোট আবহাওয়া।

বন্দী এই সময়টাতে মানসিক স্বাস্থ্য যে বিপর্যয়ের মুখে যাচ্ছে তার কোনো সন্দেহ নেই। মন খারাপকে সঙ্গী করেই থাকতে হচ্ছে অনেক শিশুকে। 
শিশু বয়সটা বিকাশের বয়স। শারীরিক বিকাশ যেমন হয়, তেমনি মানসিক বিকাশও ঘটে। কিন্তু এরকম বন্দী জীবন সেই পথের বড় বাধা।
বিনোদন বলতে এখন প্রযুক্তিই একমাত্র পথ। স্মার্টফোন, কম্পিউটার আর টেলিভিশন পর্দাই নিত্যসঙ্গী। এই জীবনকে বলা হচ্ছে 'নিউ নর্মাল'। নতুন এই জগতটাকে মেনে নিতেই হয়। অদৃশ্য এক ভাইরাসের কাছে আমরা সবাই অসহায় হয়ে আছি।

শিশু-কিশোরদের মানসিক চাপ রোধে তাদের হাসিখুশি রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা৷ শিশুরা যেন আতংকিত না থাকে সেদিকটাও গুরুত্ব দিয়ে খেয়াল রাখতে বলছেন।

আমার মনে হয়, ঘরের ভেতরেই শিশুকে নানা ধরনের খেলাধুলা আর বিনোদনের ব্যবস্থা করে দেয়া উচিত। ইনডোর গেমস, কুইজ, গল্পবলা, আড্ডাসহ নানা পারিবারিক আয়োজন করা যেতে পারে।

৫ অক্টোবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাচ্চাদের নিয়মিত খোলা হাওয়ায় খেলতে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক অনুষ্ঠানে সরকার প্রধান অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, “এই করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বাচ্চারা যেহেতু স্কুলে যেতে পারছে না, অন্তত কাছাকাছি কোনো পার্কে বা কোথাও আপনারা বাচ্চাদের অন্তত দিনে এক ঘণ্টার জন্য হলেও নিয়ে যাবেন।

“ছুটোছুটি করা, খেলাধুলা- সেগুলো যেন তারা করতে পারে, সেই সুযোগটা সৃষ্টি করে দেওয়া দরকার আমি মনে করি। কারণ তাদের স্বাস্থ্যের জন্য, তাদের মানসিক অবস্থাটার জন্য এটা খুবই দরকার।”

প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমিও একমত। এই দিকটা আমাদের ভাবা উচিত। শিশুমন হয়ত এতকিছু বুঝবে না বা বলবে না, তাদের দায়িত্বটা অভিভাবকদেরই নিতে হবে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত