অন্য চোখে

মুহাম্মাদ শরিফুজ্জামান বাপ্পি (১৫), রাজশাহী

Published: 2019-06-22 20:14:03.0 BdST Updated: 2019-06-23 16:56:09.0 BdST

নির্মলেন্দু গুণ বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় লেখক, কবি ও চিত্রশিল্পী।

তিনি ১৯৪৫ সালের ২১ জুন ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের বর্তমান বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সুখেন্দু প্রকাশ গুণ এবং মায়ের নাম বীণাপাণি গুণ।

তার ছেলেবেলা কাটে নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার কাশবন গ্রামে। চার বছর বয়সে মায়ের মৃত্যু হওয়ায় নির্মলেন্দু গুণের পড়াশোনার হাতেখড়ি হয় সৎ মায়ের কাছে।

তিনি বারহাট্টার করোনেশন কৃষ্ণপ্রসাদ ইন্সটিটিউটে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৬২ সালে অনুষ্ঠিত ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় দুই বিষয়ে লেটারসহ তিনি প্রথম বিভাগ পান।

ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার আগেই তার প্রথম কবিতা 'নতুন কান্ডারী' সেকালের জনপ্রিয় 'উত্তর আকাশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

এরপর তিনি আনন্দমোহন কলেজে আইএসসি পড়ার জন্য ভর্তি হন। ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করায় তিনি আনন্দমোহন কলেজে স্কলারশিপসহ পড়ার সুযোগ পান।

১৯৬৪ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত আইএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের ১১৯ জন প্রথম বিভাগ অর্জনকারীর মধ্যে তিনিই একমাত্র নেত্রকোণা জেলার ছিলেন।

ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে নির্মলেন্দু গুণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে পড়ার সুযোগ পান। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার অজুহাতে তার নাম ভর্তি তালিকা থেকে বাদ যায়।

আইএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ায় তিনি মাসিক ৪৫ টাকা ও বাৎসরিক ২৫০ টাকা বৃত্তি পেতেন। 

১৯৬৯ সালে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। এর আগে ১৯৬৫ সালে বুয়েটে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও মৌখিক পরীক্ষায় বাদ পড়েন।

স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে তিনি সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া বেশ কিছু বছর সাংবাদিকতাও করেছেন। ১৯৭০ এ তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'প্রেমাংশুর রক্ত চাই' প্রকাশিত হলে কবি হিসেবেই তিনি আত্মপ্রকাশ করেন।

নির্মলেন্দু গুণের অধিকাংশ কবিতায় আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে। তার কবিতাগুলোতে মূলত নারীপ্রেম, শ্রেণিসংগ্রাম ও স্বৈরাচার বিরোধী মনোভাব ফুটে উঠেছে।

তার ৫০টিরও বেশি গ্রন্থ ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

কবিতার মাধ্যমে তিনি দেশপ্রেমের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ইতিহাসে বিরল। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর স্বৈরাচারী শাসকের ভয়ে অধিকাংশ বুদ্ধিজীবীরা চুপ থাকলেও যে গুটিকয়েক বুদ্ধিজীবী সোচ্চার হয়েছিলেন, তারমধ্যে নির্মলেন্দু গুণ ছিলেন অগ্রগণ্য। 

নির্মলেন্দু গুণের ৭৪তম জন্মদিনে আমাদের পক্ষ থেকে রইল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তিনি ও তার কবিতা বেঁচে থাকুক আজীবন।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত