অন্য চোখে

জেসমিন আক্তার সুরভী (১৭), বান্দরবান

Published: 2018-05-25 19:57:14.0 BdST Updated: 2018-05-25 21:32:13.0 BdST

নারী-পুরুষকে সমান সমান দেখার মানসিকতা এখনও সমাজে তৈরি হয়নি। আর যতদিন এই মানসিকতা তৈরি না হবে; ততদিন নারী তার যোগ্য কাজের সম্মান পাবেন না।

এখনও নারীর শ্রমশক্তির ৫৬ ভাগ ব্যয় হয় পারিবারিক কাজে, অথচ সেই শ্রমশক্তির কোনো আর্থিক মজুরি পান না তারা। পেটে-ভাতে খেটে খেতে হয় আজীবন। তবু সবার জন্য সেটা যে রাজভোগ তাও নয়; সবাই খেয়ে যেটুকু বাঁচে, নারীর কাছে তাই অমৃত সমান। কারণ স্বামী-সন্তানের জন্য তার যে গভীর মমতা! যে মমতাকে দুর্বলতা গন্য করা হয়। 

নারীর অগ্রগতি তবু থেমে নাই। তবে অগ্রগতি শুধু উদাহরণে থাকলেই হবে না। সে উদাহরণ সব নারীর জীবনকে ছুঁয়ে যেতে পারতে হবে।

আমাদের দেশের শহরের নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে অনেকটা সক্ষম হলেও গ্রাম ও পাহাড়ি অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া নারীরা পাচ্ছেন না ন্যায্য অধিকার। পিছিয়ে আছেন অনেক দিক থেকেই।  

যদিও গ্রাম ও পাহাড়ি অঞ্চলের নারীরা অনেক আগে থেকেই তৈরি করে আসছেন, বাঁশ-বেতের জিনিস, নকশি কাথা, তাঁতের কাপড়, মাটির তৈরি সরঞ্জাম।  

কিন্তু বাড়ির ব্যবহারে বা বিপননের জন্য এসব উৎপাদনের জন্য তারা কখনও আলাদা আর্থিক মজুরি পেতেন না। পারিবারিক কাজেই নারীর স্বল্প অর্থটুকুও ব্যয় হয়ে যেত। তার নিজের কোনো পুঁজি নাই!

তবে আশার কথা, নারীদের এরূপ দক্ষতা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণের। আর দেশের প্রত্যেকটি পিছিয়ে পড়া গ্রাম ও পাহাড়ি অঞ্চলের নারীদের জন্য এখন সরকার বিভিন্ন ট্রেড ভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু করেছে।

দেশের জেলার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ট্রেড ভিত্তিক তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। ট্রেডগুলোতে কাজ শেখানো হয় আধুনিক দর্জি বিজ্ঞান, এমব্রয়ডারি, শো-পিস তৈরি, মোবাইল সার্ভিসিং ও বিউটিফিকেশন।

প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের মাস ভিত্তিক নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। যার কারণে সব নারী এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজের কর্মসংস্থান নিজে গড়তে আগ্রহী।

বান্দরবান জেলার পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতেও বিপুল পরিমাণে এসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। মহিলা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন জয়ীতা-বান্দরবান শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও কারিগরি দক্ষতাবৃদ্ধিমূলক এক মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ চলছে। এখানে নারীদের মোমবাতি তৈরি, শো-পিস, আচার তৈরি, ব্লক-বাটিক এসব কাজ শেখানো হচ্ছে।

সঠিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে গ্রাম ও পাহাড়ি অঞ্চলের নারী উদ্যোক্তাগণ নিজের কর্মসংস্থান নিজে করতে পারবেন। নারীরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে নিজের কর্মসংস্থান করে সক্ষম হতে পারবে। এসব কিছুসহ আজকে নারীকে লড়তে হবে সর্বগ্রাসী পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে,পুরুষকে সঙ্গে নিয়েই। যদিও পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সেটা করতে পারাটা কঠিন। এই কঠিন কাজটিই আজকের নারীদের, সাম্যের সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর এতে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ খুব জরুরি।    

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত