অন্য চোখে

তন্ময় বিশ্বাস (১৬), যশোর 

Published: 2018-03-08 17:21:04.0 BdST Updated: 2018-03-08 19:19:40.0 BdST

জাতীয় সঙ্গীত হলো একটি জাতির ও তার জাতীয়তার পরিচয়। অন্য স্বাধীন রাষ্ট্রের মতো আমাদেরও রয়েছে একটি জাতীয় সঙ্গীত।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি আমাদের জাতীয় সঙ্গীত। এটি আমাদের জীবনে বহন করে বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য।

তবে গানটি রচনার প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস সম্পর্কে অনেকেই স্পষ্ট ধারণা রাখেন না।

১৯০৫ সালে ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন কর্তৃক বাংলাকে বিভক্ত করার জন্য ‘বঙ্গভঙ্গ’ নামক যে আদেশ প্রণীত হয়েছিল, তা আলোড়ন তুলেছিল সমগ্র অবিভক্ত বাংলায়। তখন যে প্রতিবাদ গড়ে উঠেছিল, সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। আর সেই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গানটি রচনা করেছিলেন। 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে পহেলা মার্চ ঢাকায় স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হবার পর ৩ মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় যে ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছিল, সেখানে ‘আমার সোনার বাংলা’- গানটি জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে উল্লিখিত এবং পরিচিত হয়। এরপর ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের সময় গানটি প্রথমবার জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে পরিবেশিত হয়েছিল। 

গানটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলেও, মূল সুরটি সংগ্রহ করেছিলেন একটি বাউল গানের সুর থেকে। গানটি হলো- ‘আমি কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে’। যে গানটির রচয়িতা ছিলেন, গগন চন্দ্র দাশ। তিনি সঙ্গীত সাধক হলেও  পেশায় ছিলেন শিলাইদহের একজন ডাক-হরকরা। তাই তিনি গগন হরকরা নামেই অধিক পরিচিত। তার গানের সুরকে অবলম্বন করেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আমার সোনার বাংলা’ গানে সুরারোপ করেছিলেন।

মূল গানটির পঙক্তি সংখ্যা ২৫। তবে এর প্রথম ১০ পঙক্তি আমাদের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত। আর যন্ত্রসঙ্গীতের ক্ষেত্রে প্রথম ৪ পঙক্তি বাজানো হয়।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত