দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে আসে কাঙ্ক্ষিত বিজয়।
Published : 16 Dec 2025, 08:45 AM
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। দিনটি ইতিহাসের এক অনন্য ও গৌরবময় অধ্যায়। মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে সেই ঐতিহাসিক বিজয়ের ৫৪তম বার্ষিকী।
জাতির এই বিজয় কারও দয়া বা উপহার ছিল না। পাকিস্তানের অন্যায় শাসন, নির্যাতন ও বঞ্চনার অবসান ঘটেছে ৩০ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে।
১৯৪৭ সালে ইংরেজ শাসনের অবসান হলেও এই ভূখণ্ডের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা পায়নি। শুরু হয় পাকিস্তানি শাসন, যা দুই যুগ ধরে শোষণ ও বৈষম্যের মাধ্যমে চলতে থাকে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে ঘুমন্ত, নিরস্ত্র মানুষের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সশস্ত্র হামলা চালায়। সেই নৃশংসতার মধ্য দিয়েই শুরু হয় মুক্তির সংগ্রাম।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে এই বাংলার মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিরোধ যুদ্ধে। গ্রামের কৃষক, শহরের ছাত্র, বৃদ্ধ কিংবা তরুণ- সবাই হাতে হাত মিলিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
যুদ্ধ পরিচালনা সহজ করার জন্য মুক্তিবাহিনীকে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে এবং পুরো দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ালেও কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করে। এতে যুদ্ধ আরও কঠিন হয় এবং অনেক বেশি রক্ত ঝরে।
দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে আসে কাঙ্ক্ষিত বিজয়। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মুক্তিবাহিনী ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের যৌথ নেতৃত্বের কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
দখলদার বাহিনীর এই আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ের ইতিহাস রচিত হয়।
বিজয়ের মাস এলেই দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। লাল-সবুজের পতাকায় সেজেছে ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত ও যানবাহন। সরকারি ও বেসরকারি ভবনে করা হয়েছে আলোকসজ্জা।
প্রতিবেদক: মোছা. আফসানা আক্তার মিমি (১২), কুড়িগ্রাম, আনিকা রহমান মৌ (১৪), ঢাকা।