আবহাওয়াবিদ সাইমন কিংয়ের মতে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হতে পারে সবচেয়ে উত্তপ্ত বিশ্বকাপ।
Published : 08 Nov 2025, 10:40 PM
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে পরিবেশবিদদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত “ওয়ার্ল্ড কাপ সেন্ডস ‘ডেঞ্জারাস মেসেজ’ অন ক্লাইমেট” শিরোনামের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেবে মোট ৪৮টি দল এবং ম্যাচ হবে ১০৪টি। আগের আসরের তুলনায় ম্যাচের সংখ্যা বাড়ছে ৪০টি। ফলে দর্শকের উপস্থিতিও বাড়বে অনেকগুণ। যা কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে।
গবেষণা সংস্থা সায়েন্টিস্টস ফর গ্লোবাল রেসপন্সিবিলিটি বলছে, এই বিশ্বকাপ থেকে নয় মিলিয়নেরও বেশি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হতে পারে। এর মাধ্যমে এটি ইতিহাসের অন্যতম পরিবেশ ক্ষতিকর ক্রীড়া আয়োজন হয়ে উঠতে পারে।
টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্ট ইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. অর বিবিসিকে বলেন, “ফিফা কার্বন নিঃসরণ কমানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এই আয়োজন তার সম্পূর্ণ বিপরীত।”
তিনি জানান, আয়োজক দেশগুলো বিড করার সময় জানিয়েছিল টুর্নামেন্টটি হবে পরিবেশবান্ধব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আর সম্ভব নয়।
তার মতে, এখন যা করা সম্ভব তা হল ক্ষতি কমিয়ে আনা।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আয়োজক ১৬টি শহরের মধ্যে ১৪টিতেই তীব্র গরম পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনেক মাঠই খেলার অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে। এতে খেলোয়াড়, দর্শক, কর্মী এবং সাংবাদিক সবারই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে।
আবহাওয়াবিদ সাইমন কিংয়ের মতে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হতে পারে সবচেয়ে উত্তপ্ত বিশ্বকাপ। তিনি বলেন, “গত বছর টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও মেক্সিকোতে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছিল, আবারও এমন হতে পারে।”
এ প্রসঙ্গে সাবেক ফুটবলার ডেভিড হুইলার বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন এখন ফুটবলের চোখে দেখা বাস্তবতা। খেলাধুলা থেকে লাভ করা সংগঠনগুলোকে পরিবেশের দায়িত্বও নিতে হবে।”
ফিফা এখনো তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। তবে সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে ভবিষ্যতে ফুটবলের সময়সূচি পরিবর্তন করতে হতে পারে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৪। জেলা: ঢাকা।