নানা দেশে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষও এই উৎসবকে আপন করে নিয়েছে।
Published : 25 Dec 2025, 01:01 PM
ডিসেম্বর এলেই বড়দিনের প্রস্তুতি চোখে পড়তে শুরু করে। কোথাও ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয়, কোথাও ঝুলতে থাকে রঙিন আলোর মালা। দিন যত এগোয়, ততই চারপাশে উৎসবের আবহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন হিসেবে বড়দিন উদযাপন করা হয়। খ্রিস্টানদের বিশ্বাস, যিশু মানুষের মাঝে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা আর ভালোবাসার শিক্ষা দিতে পৃথিবীতে এসেছিলেন। সেই শিক্ষা স্মরণ করেই যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বড়দিন পালন করা হয়।
যদিও বড়দিন একটি ধর্মীয় উৎসব, তবু এর আনন্দ আজ শুধু একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নানা দেশে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষও এই উৎসবকে আপন করে নিয়েছে।
এই দিনে অনেক বাড়ি আলো, মালা ও ক্রিসমাস ট্রি দিয়ে সাজানো হয়। কোথাও প্রতীকী গোশালা দেখা যায়। আবার কেউ কেউ সান্তা ক্লজ সেজে শিশুদের উপহার দিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন।
সান্তা ক্লজ বড়দিনের সবচেয়ে পরিচিত চরিত্রগুলোর একটি। শিশুদের কল্পনায় তিনি আনন্দ ও উপহারের প্রতীক।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড়দিনে হোটেল ও শপিং মলে সান্তা ক্লজের পোশাক পরা কর্মীদের দেখা যায়। এতে বোঝা যায়, সান্তা ক্লজ এখন ধর্মীয় রীতির চেয়ে অনেকটাই বিশ্ব সংস্কৃতির অংশ। এই বিশ্বজনীন আনন্দের প্রকাশই বড়দিনকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে এসেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড়দিন পালনের ধরনে ভিন্নতা রয়েছে। সেই ভিন্নতা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায় খাবারের আয়োজনে। দেশে দেশে বড়দিনে আলাদা আলাদা খাবারের প্রচলন রয়েছে, যা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে।
ইংল্যান্ড ও ইংরেজি সংস্কৃতির প্রভাবে থাকা দেশগুলোতে বড়দিনের খাবারে সাধারণত টার্কি, আলু, শাকসবজি, সসেজ ও গ্রেভি থাকে। মিষ্টান্ন হিসেবে থাকে পুডিং, পাই ও ফ্রুট কেক।
পোল্যান্ড, পূর্ব ইউরোপ ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোতে বড়দিনে মাছ বেশি খাওয়া হয়, যদিও এখন সেখানে ভেড়ার মাংসও জনপ্রিয় হচ্ছে।
জার্মানি, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ায় বড়দিনের খাবারে হাঁস ও শূকরের মাংস বেশি দেখা যায়।
এছাড়া প্রায় সারা বিশ্বেই গরুর মাংস, হ্যাম ও মুরগির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। আর ফিলিপিনসে বড়দিনের প্রধান খাবার হল হ্যাম।
ভিন্ন ভিন্ন রীতি থাকলেও একটি বিষয়ে যেন সবাই এক। এদিন পরিবারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানুষ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যায়, একে অন্যের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে, পুরোনো গল্প আর স্মৃতি ভাগ করে নেয়।
বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকাতেই বড়দিনের উদযাপন দেখা যায়। গির্জাগুলোতে থাকে বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্থা।
অনেক জায়গায় শোভাযাত্রা হয়, কোথাও আবার সান্তা ক্লজকে ঘিরে আনন্দের আয়োজন দেখা যায়। রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেলগুলোর বিশেষ আয়োজন এই দিনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৬। জেলা: ঢাকা।