নাম বিভ্রাটে ৫০ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি (ভিডিওসহ) - hello
খবরাখবর

জাহাঙ্গীর আলম (১৭), লালমনিরহাট

Published: 2021-04-04 17:36:48.0 BdST Updated: 2021-04-05 14:22:47.0 BdST

স্বাধীনতার ৫০ বছর পর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন লালমনিরহাট জেলার আকবর আলী নামের এক বাসিন্দা।

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও ট্রেনিংয়ের সময় অন্য নামে নথিভূক্ত হওয়ায় এতদিন স্বীকৃতি মেলেনি বলে জানান তিনি। তার বাড়ি জেলার পাটগ্রাম থানার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বানিয়াডাঙ্গী গ্রামে। স্বীকৃতি পাওয়ার অনূভুতির কথা জানতে চাইলে তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

হ্যালোকে তিনি বলছিলেন, "কষ্ট করে ট্রেনিং ও যুদ্ধ করার পর সহযোদ্ধারা সবাই স্বীকৃতি পেলেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়াটা ছিল চরম হতাশার। এখন এই স্বীকৃতি পাওয়াটা আমার জন্য সত্যিই অনেক আনন্দের ও ভালো লাগার।"

কেন ও কী নিয়ে এই বিভ্রাট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ঢেউ বিচলিত করে তাকেও। বন্ধু গফুরের সাথে পরামর্শ করে দুজনেই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। বানিয়াডাঙ্গী থেকে ভারতের চাংরাবান্ধা সীমান্ত থেকে বাসে চেপে রওনা হন জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ইয়ুথ ক্যাম্পের দিকে। কিন্তু ক্যাম্পে গিয়েই বাঁধে বিপত্তি। নাম নথিভূক্ত না হলে ট্রেনিংয়ে অংশ নেওয়া যাবে না বলে জানতে পারেন।  আর নাম নথিভূক্ত করতে অপেক্ষা করতে হবে কয়েকদিন। কিন্তু তর সইছিল না আকবরের। এখানে সেখানে কথা বলে জানতে পারেন পাটগ্রামেরই আব্দুস সালাম নামের এক ব্যক্তি ট্রেনিং শেষ না করেই বাড়ি ফিরে গেছেন। পরিচিত একজনের পরামর্শে আব্দুস সালাম নামেই তিনি ট্রেনিংয়ে যোগ দেন।

তিনি আরও জানান, আব্দুস সালাম নামেই ট্রেনিং শেষ করে যুদ্ধে যোগ দেন। সহযোদ্ধারা সকলেই সে ইতিহাস জানেন এবং বহুবার আকবর আলীর পক্ষে সাক্ষ্যও দিয়েছেন। 

নামের গ্যারাকলে স্বাধীনতার কয়েক যুগ পর্যন্তও তিনি পাননি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি। বঞ্চিত হন মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা থেকে।

জানালেন, নিজেদের বসবাসের জন্য এক টুকরো জমিও তার নেই। বর্গাচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

তিনি হ্যালোকে বলেন, "পাটগ্রামের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক মো. সাইদুর রহমান মিঠুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন এমপি মহোদয়ের জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ কমিটিতে আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি আমি স্বীকৃতি পাই।"

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত