খবরাখবর

সাইদুর রহমান সাগর (১৬), ঢাকা

Published: 2020-03-26 18:09:51.0 BdST Updated: 2020-03-28 15:50:37.0 BdST

জন্ম থেকেই 'অজানা রোগে আক্রান্ত' খাদিজা লড়ে যাচ্ছে জীবনের সাথে।

পড়াশোনা প্রাথমিকের পর আর চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ হয়নি। বাঁকা চোখের এই সমাজ গ্রহণ করেনি তাকে। খাদিজাও থেমে যাওয়ার নয়। কারো করুণায় বাঁচতে চায় না। বর্তমানে একটি মুদ্রণ প্রেসে ফরম পূরণের কাজ করে।

খাদিজার সঙ্গে কথা বলেছে হ্যালো। সে বলছিল, “ব্র্যাক স্কুলে একদিন আমার আম্মা স্যারদের রিকুয়েস্ট করে আমাকে ভর্তি নিতে। আমি তো হাঁটতে পারি না। পরে তারা আম্মুকে বলল আপনার মেয়েটাকে নিয়ে আসেন। যাওয়ার পর তারা আমাকে স্বরবর্ণ ধরছে , গণনা ধরছে সবই পেরেছি।

সে যোগ করে, "ওখান থেকে ফাইভ পর্যন্ত পড়েছি। কিন্ত তারপর আমার কষ্ট, আমি ক্যামনে এভাবে স্কুলে যাব। অভাবের সংসারে গাড়ির ব্যবস্থা সম্ভব ছিল না। এরপর অনেক স্কুলে গেছি অনেকে হাসাহাসিও করছে। আর পড়া হয় নাই।”



খাদিজার দরিদ্র মা জানান, মেয়েটা জন্ম নেওয়ার পর থেকেই লড়াই করে যাচ্ছেন। নানা কুসংস্কারের বাঁধায় পড়লেও আত্মসম্মানবোধে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়াতে দেননি মেয়েকে।

খাদিজার মা হ্যালোকে বলেন, “আমার এই মেয়ে নিয়ে আমি অনেক কষ্ট করছি। দিনের পর দিন হাসপাতালেই থাকতাম। ওর আব্বা রিক্সা চালায়ে রোজ ৫০০ টাকা সিট ভাড়া দিত। আমরা না খাইয়া ওর দুই বছর পর্যন্ত চিকিৎসা করাইছি যে ও হাঁটে না ক্যান।

"পড়ে মাটি গর্ত কইরা খাড়াও করায় রাখছি। যে যা বলছে তাই শুনছি। অনেকে বলত রাস্তায় দাও ভিক্ষা পাবে। আমি তখন বলছি আমার রক্ত পানি পানি হয়ে গেলেও ওরে রাস্তায় দিব না।”

ঠিকানাবিহীন ঠিকানায় খাদিজা মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে, কেন এই জীবন। কিন্তু সে এগিয়ে যেতে চায়। অন্যদের প্রতিও এগিয়ে যাওয়ার বার্তা তার।

"আমি চাই আমার মত কেউ যাতে দমে না যায়। তারা যাতে সামনে এগিয়ে যেতে পারে। তারা যেন লেখাপড়া করে চাকরি করতে পারে। বাকি জীবন ছোট বোনটার দেখাশোনা করে কাটায় দিব।” সে বলে।

 

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত