খবরাখবর

হাসানুল বান্না সিফাত (১৬), শেরপুর

Published: 2018-02-13 21:18:00.0 BdST Updated: 2018-02-13 22:01:34.0 BdST

শেরপুরের ভাষা সৈনিক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ আব্দুল হান্নান বার্ধক্যজনীত রোগে ভোগে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন।

তার ছেলে ডা. সৈয়দ আব্দুল আদিল রূপস জানায়, তার বাবা শেরপুরের বাসায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ১০ দিন আগে ঢাকায় নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, “গত চার দিনে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। শনিবার পর্যন্ত অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে গেলেও রোবরাব সকাল থেকে অবস্থা অবনতির দিকে।” 

সৈয়দ আব্দুল হান্নান ১৯৩২ সালে ২৫ ডিসেম্বর শেরপুরে জন্ম নেন। বাবা সৈয়দ আব্দুল হালিম, মা রাবেয়া খাতুন।

১৯৫২ সালে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজ থেকে তিনি আইএসসি পাশ করেন এবং পরবর্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৬ সালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে এমএ এবং ১৯৬৪ সালে এলএলবি পাশ করেন । ১৯৬৪ সালের ১৬ জুলাই তিনি শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৯৯ সালের ৩০ জানুয়ারি ওই কলেজ থেকেই অবসর নেন।

ভাষা সৈনিক ও প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ হিসেবে সৈয়দ আব্দুল হান্নান শেরপুরের একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। ১৯৫২ সালে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে পড়ার সময় তিনি একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। সেসময় শেরপুরের সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে যে ক’জন তরুণ ছিলেন তাদের অন্যতম একজন তিনি।

তার বড় ভাই ছাত্র নেতা সৈয়দ আব্দুস সোবহান ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়ার অপরাধে শেরপুর থেকে গ্রেফতার হন। ভাষা আন্দোলন ছাড়াও তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার ও তাদের দোসরদের হাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে  নির্যাতিত হন তিনি। ২০০৫ সালে ভাষাসংগ্রামী হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হন।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত
  • ইংরেজির বড়াই

    ‘আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি, তারপর ইংরেজি ভাষার পত্তন’ বলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রত্যেক দেশের মানুষেরেই একটি নির্দিষ্ট ভাষা রয়েছে, নির্দিষ্ট সংস্কৃতি রয়েছে। তবে আজ আমরা অনেকেই আমাদের ভাষা, সংস্কৃতিকে ভুলতে বসেছি। বর্তমানে নিজ দেশের সংস্কৃতি ও ভাষার তুলনায় আমরা অন্য দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি মেনে চলতে বেশি ভালোবাসি, স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি!

  • মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নাই যুদ্ধ সরঞ্জাম (ভিডিওসহ)

    চার বছর আগে টাঙ্গাইলে যুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স তৈরি করা হলেও সেখানে এখনও ঠাই পায়নি কোনো স্মৃতি বা যুদ্ধ সরঞ্জাম।

  • ফুটবল নিয়ে কুরুক্ষেত্র 

    খেলা বিনোদনের সেরা মাধ্যম। আমরা চার বছর অন্তর অন্তর ফিফার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকি।