সতর্ক করে এ চিকিৎসক বলেন, "লবণাক্ত পানির কারণে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও কিশোরীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।"
Published : 15 Oct 2026, 01:00 PM
বাগেরহাটে সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের ভাষ্য, পুকুর, অন্যান্য জলাশয় ও নলকূপের পানিতেও লবণাক্ততা রয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে বছরের দুই থেকে তিন মাস চলতে পারলেও বাকি সময় পানির প্রয়োজন মেটাতে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হয় তাদের।
জেলা শহরের খারদ্বার এলাকার বাসিন্দা সাবিনা ইয়াসমিন। তার পরিবার পুকুর ও নলকূপের পানি ব্যবহার করে।
পৌরসভার সরবরাহ করা পানি ছাড়া অন্য সব পানিই লবণাক্ত জানিয়ে এই নারী বলেন, “লবণ পানির জন্য অনেক অসুবিধা হয়। চুল উঠে যায়, কাপড়চোপড়ের রং উঠে যায়। থালাবাসনে লাল লাল দাগ পড়ে যায়। এমনকি ঘরের প্লাস্টারও খসে পড়ে।”
একই এলাকার বাসিন্দা রত্না আক্তার বলেন, "আমার মনে হয় দিনের পর দিন লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে দাঁতে দাগ পড়ে এবং ত্বকের ক্ষতি হচ্ছে।"
জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে গিয়ে কথা হয় জান্নাতুল ফেরদৌস নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে।
হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে সে বলে, "আমাদের এলাকার নদীর পাড়ের পুকুরগুলোর পানির লবণাক্ততা বেশি। এলাকায় সুপেয় পানির উৎস না থাকায় দূর থেকে পানি আনতে হয়। এতে পড়াশোনার সময় অনেক কমে যায়।"
একই উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের থাকে রওশান তাবাসসুম রওনক।
নবম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী হ্যালোকে বলে, "লবণাক্ত পানির সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে অনেকের যথেষ্ট ধারণা নেই। অনেক নারী দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি মাসিকের সময়ও লবণাক্ত পানি ব্যবহার করেন।"
লবণাক্ত পানি পান ও ব্যবহারের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ইসরাত জাহানের সঙ্গে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয়।
সতর্ক করে এ চিকিৎসক বলেন, "লবণাক্ত পানির কারণে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও কিশোরীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।"
তার ব্যাখ্যা, লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে ত্বকের সমস্যা, চুলকানি ও ছত্রাকের সংক্রমণের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর অতিরিক্ত লবণযুক্ত পানি দীর্ঘদিন পান করলে শরীরে সোডিয়ামের গ্রহণ বেড়ে রক্তচাপ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
২০২৪ সালে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জি. এম. মোস্তাফিজুর রহমান হ্যালোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বাগেরহাটে লবণাক্ততা দিন দিন বাড়ছে। এর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনেরও দায় রয়েছে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৫। জেলা: বাগেরহাট।