'মাছির মত চারদিক দেখতে হবে'

সুকুমার বড়ুয়া অপরিচিত কোনো নাম নয়। কবি হিসেবে পেয়েছেন আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা। পেয়েছেন বাংলা একাডেমী, শিশু একাডেমীর সাহিত্য পুরষ্কার থেকে শুরু করে বহু সম্মাননা।
'মাছির মত চারদিক দেখতে হবে'

ধন্য সবাই ধন্য
অস্ত্র ধরে যুদ্ধ করে
মাতৃভূমির জন্য।

ধরল যারা জীবন বাজি
হলেন যারা শহিদ গাজি
লোভের টানে হয়নি যারা
ভিনদেশীদের পণ্য।

দেশের তরে ঝাঁপিয়ে পড়ে
শক্ত হাতে ঘায়েল করে
সব হানাদার সৈন্য
ধন্য ওরাই ধন্য।

সুকুমার বড়ুয়ার 'মুক্তিসেনা' কবিতাটি আমরা স্কুলের বইটিতে পড়েছি। শিশুরা বেশ মজা পায় তার ছড়া পড়ে।

হ্যালোর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে সুকুমার বড়ুয়া বলেছেন না বলা অনেক কথা। 

হ্যালোঃ স্যার কেমন আছেন?

সুকুমার বড়ুয়াঃ এখন কি আর ভালো থাকি।

হ্যালোঃ আমি একটু কথা বলি? কষ্ট হবে না তো?

সুকুমার বড়ুয়াঃ না না। বলো। কানে কম শুনি তো, আরেকটু কাছে এসে বললে ভালো শুনতে পাবো।

হ্যালোঃ ১৯৭০ সালে আপনার প্রথম ছড়ার বই বের হয় কিন্তু আপনার লেখালেখির বয়স কত হবে?

সুকুমার বড়ুয়াঃ এইতো জুন মাসে ৫৮ বছর পুরা হবে। ১৯৫৮ সাল থেকে শুরু করেছিলাম।

হ্যালোঃ শুরুটা কেমন ছিল?

সুকুমার বড়ুয়াঃ আমি তো দুস্থ শিশু শ্রমিক ছিলাম। তখন থেকে লেখা শুরু করেছি। কাজ করতাম, লেখতাম।

হ্যালোঃ ছড়া লেখা শুরু করলেন কীভাবে?

সুকুমার বড়ুয়াঃ গ্রামে মনসার পুঁথি হতো। সেগুলো শুনতাম আর মনে মনে লেখার চেষ্টা করতাম।

হ্যালোঃ স্যার আপনি বলেছিলেন, আপনি ‘দুই ক্লাস পাস’। কিন্তু আজ আপনার লেখা আমরা পড়ি। আপনি দেশের একজন অন্যতম কবি।

সুকুমার বড়ুয়াঃ মুখস্ত বিদ্যা কাজে আসে না। বিদ্যাকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে হয়।

হ্যালোঃ এ যুগে আমরা সৃজনশীলতা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি। সবাই গ্রন্থগত বিদ্যা নিয়ে ব্যস্ত। আমাদের করণীয় কি হতে পারে ?

সুকুমার বড়ুয়াঃ সৈয়দ মুজতবা আলী একটা কথা বলছিলেন। মাছি মারা সহজ। কিন্তু মাছিকে কিছুতেই ধরা যায় না। কারণ মাছির মাথার চারদিকেই চোখ আছে। এখনকার যুগে মাছির মত চারদিকে চোখ রাখতে হবে।

হ্যালোঃ আপনাদের লেখাপড়া আর এখনকার লেখাপড়ার পার্থক্য কি দেখছেন?

সুকুমার বড়ুয়াঃ আমরা যখন লেখাপড়া করেছি তখন শুধু বাংলা, ইংরেজি, অংক ছিল। এখন শিশুদের বইয়ের বোঝা দেখলে আমি নিজেই ভয় পাই। মনে হয় লেবার লাগবে ব্যাগ নেওয়ার জন্য।

হ্যালোঃ আপনি কি, বই কমিয়ে ফেলার কথা বলছেন?

সুকুমার বড়ুয়াঃ সংক্ষিপ্ত করলে ভালো হতো।

হ্যালোঃ তাহলে শিক্ষার ঘাটতি থেকে যাবে না ?

সুকুমার বড়ুয়াঃ দশটা বই পড়লাম, জীবনে চলার পথে একটা বই কাজে আসলো। বাদ বাকি নটাই বাদ গেল। তো বছর বছর বই না বাড়িয়ে প্রয়োজনীয়গুলো রাখলেই ভালো হয়।

বাচ্চাটাকে খেয়াল খুশি করার জন্যও তো সময় দিতে হবে। তবেই তো সে তার ফসল দেখাতে পারবে।

হ্যালোঃ স্যার আবার একটু ছোটকালে ফিরছি। তখন কি কবি হতে চেয়েছিলেন ?

সুকুমার বড়ুয়াঃ বড় হয়ে….কিছু একটা হব ভাবতাম। ছোটকালে গল্প শুনতাম। রাজপুত্রদের গল্প শুনতাম, ঐ ধরনের একটু এই যে, যাদুকরী শক্তির কিছু ইয়ে হব। এইরকম চিন্তা করতাম আরকি।

হ্যালোঃ শৈশবের সময়গুলো কীভাবে কাটতো?

সুকুমার বড়ুয়াঃ অভাব ছিল। অনাথ ছিলাম তো। বাড়িতে বাড়িতে কাজকর্ম করেই সময় কাটতো। লেখা ছাপা হইছে তখনও এক বাসায় ধরো কাজ করতেছি। যাদের রান্না করতাম, তাদের পাতে ভাত-তরকারী দিয়ে পেপার আনতে ছুটলাম। তারপর তাদের দেখাতাম। তারা বলতো তুই না রান্না করস? আবার লেখক হয়ে গেলি! তাজ্জব হয়ে যেত।

হ্যালোঃ স্যার আপনার পাগলা ঘোড়া কেমন আছে?

সুকুমার বড়ুয়াঃ ঐ বইটার কথা বলছো? হা হা হা.. ভালো আছে।

হ্যালোঃ এখন সময় কাটে কীভাবে?

সুকুমার বড়ুয়াঃ চলাচল করতে কষ্ট হয়। শুয়ে বসে কত থাকা যায়। বেরুতে পারি না। ভালো লাগে না।

হ্যালোঃ ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

সুকুমার বড়ুয়াঃ ধন্যবাদ তোমাকে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.