‘বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বসে চা খেয়েছি’

'আমি ১১ নম্বর সেক্টরে থেকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি।'
মুক্তিযোদ্ধা শেখ এন্তাজ উদ্দিনের সঙ্গে হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমেরশিশু সাংবাদিক

মুক্তিযোদ্ধা শেখ এন্তাজ উদ্দিনের সঙ্গে হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমেরশিশু সাংবাদিক

বাগেরহাট সদরের দক্ষিণ সরুই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ এন্তাজ উদ্দিন ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ করেন ১১ নম্বর সেক্টরে। হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা ভাগাভাগি করেন তিনি।

হ্যালো: মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনার বয়স কত ছিল?

শেখ এন্তাজ উদ্দিন: মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল ৩৪ বছর।

হ্যালো: আপনি কত নম্বর সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন?

শেখ এন্তাজ উদ্দিন: আমি ১১ নম্বর সেক্টরে থেকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি।

হ্যালো: মুক্তিযুদ্ধের জন্য কি ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন?

শেখ এন্তাজ উদ্দিন: হ্যাঁ, আমরা ভারতে প্রশিক্ষণের জন্য গিয়েছিলাম।

হ্যালো: যুদ্ধের সময় কি নিজের বাড়িতে ছিলেন না অন্য কোথাও ছিলেন? 

শেখ এন্তাজ উদ্দিন: না, বাড়িতে ছিলাম না। অন্য জায়গায় ছিলাম। যখন যা পেতাম তাই খেতাম। খাবারের কোনো নিয়ম ছিল না। মাঝে মধ্যে না খেয়েও থাকতাম।

হ্যালো: আপনার সঙ্গে আর কতজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন?

শেখ এন্তাজ উদ্দিন: আমাদের দলে আমরা ১৫ জন একসঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিতাম।

হ্যালো: মুক্তিযুদ্ধের জন্য আপনারা অস্ত্র কীভাবে সংগ্রহ করতেন?

শেখ এন্তাজ উদ্দিন: তখন বাগেরহাটের সংসদ সদস্য ছিলেন আব্দুর রহমান। তিনি অস্ত্রাগারের তালা ভেঙে দিয়েছিলেন। সেখান থেকে আমরা অস্ত্র নিতাম।

হ্যালো: অপারেশনের জন্য বের হওয়ার সময় আপনার সঙ্গে কী কী থাকত? 

শেখ এন্তাজ উদ্দিন: একটা রাইফেল হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়তাম।

হ্যালো: ২৫শে মার্চ ভয়াল কালরাতে আপনি কোথায় ছিলেন? 

শেখ এন্তাজ উদ্দিন: ২৫শে মার্চ কালরাতে বাড়িতেই ছিলাম।

হ্যালো: আপনার সেই রাতের অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

শেখ এন্তাজ উদ্দিন: সেদিন কী ঘটেছিল তা আমরা চোখে দেখিনি। তবে এ ভয়ঙ্কর রাতের কথা পরে শুনতে পাই।

হ্যালো: ২৬শে মার্চ যখন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেন সেই সংবাদ আপনি কীভাবে পান?

শেখ এন্তাজ উদ্দিন: তখন আমি সেই সংবাদ রেডিও থেকে শুনি। সে খবর পাওয়ার পর আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিই।

হ্যালো: মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনার কোনো আত্মীয়-স্বজন বা সহকর্মী নিহত হয়েছেন?

শেখ এন্তাজ উদ্দিন: আমার এক শ্যালক মারা যান আর সহকর্মীও মারা যান অনেক।

হ্যালো: মুক্তিযুদ্ধের সময় কি প্রতি রাতে ঘুমাতে পারতেন? 

শেখ এন্তাজ উদ্দিন: না ঘুমাতে পারতাম না, তখন ঘুম আসত না।

হ্যালো: মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কোন স্মৃতিটা বেশি মনে পড়ে? 

শেখ এন্তাজ উদ্দিন: তখন আমার স্ত্রীর কোলে ছোট মেয়ে ছিল। সে সময়ের কথা আজও মনে পড়ে।

হ্যালো: বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কখনো সরাসরি দেখা হয়েছে আপনার?

শেখ এন্তাজ উদ্দিন: হ্যাঁ, তিনি যখন খুলনায় ছাত্রলীগের সমাবেশে আসেন, তখন আমরা একসঙ্গে বসে চা খেয়েছি।

প্রতিবেদকের বয়স: ১৩। জেলা: বাগেরহাট।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24
bangla.bdnews24.com