চলতি অর্থবছরের বাজেটে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে যে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, প্রথম আড়াই মাসেই তার অর্ধেক খরচ হয়ে গেছে বলে তথ্য দেন জাহেদ উর রহমান।
Published : 22 Sep 2026, 02:47 PM
আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা এবং জ্বালানি খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান ও ভর্তুকির চাপ কমাতে সরকার দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে ‘বাধ্য হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের অসন্তুষ্টির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, “বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণেই এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।”
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ ব্যাখ্যা দেন উপদেষ্টা।
গত রোববার রাতে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ায় সরকার। সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তেলের দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা বলেন, “বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম মাঝেমধ্যে সাময়িকভাবে সামান্য কমলেও বাজার এখনও চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও উদ্বায়ী (ভোলাটাইল)। ক্রুড অয়েলের দাম এখনও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে অবস্থান করছে।
“তা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের (পশ্চিম এশিয়ার) লোহিত সাগর ও বাব এল মানদেব প্রণালীতে চলমান সংকট, হুথি আক্রমণ, সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলার কারণে ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হওয়ার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।”
জ্বালানি খাতে সরকারের লোকসান ও ভর্তুকির পরিমাণ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, “লিটারপ্রতি ডিজেলে বিপিসির প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছিল, যার কারণে দৈনিক প্রায় ১০৯ কোটি টাকা এবং কেবল ডিজেলেই বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসানের হিসাব দাঁড়ায়।
“প্রতি লিটারে দাম ২০ টাকা বাড়ানোর পরেও এখনও সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি যোগাতে হচ্ছে। তবে লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর ফলে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার লোকসান কমানো সম্ভব হবে।”
চলতি অর্থবছরের বাজেটে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে যে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, প্রথম আড়াই মাসেই তার অর্ধেক খরচ হয়ে গেছে বলে তথ্য দেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, “এই হারে তেলের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও গ্যাসেও অনিয়ন্ত্রিত ভর্তুকি দিয়ে গেলে বছর শেষে কেবল জ্বালানি খাতেই সরকারের দেনা সোয়া এক থেকে দেড় লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাবে।
“এর ফলে সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়বে।”
পরিবহন খাতে জ্বালানির প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে মোট কনজাম্পশনের বিচারে পেট্রোল ও অকটেনের ব্যবহার খুবই কম, মূল ব্যবহার ও ভর্তুকির সিংহভাগই যায় ডিজেলে। ফলে ডিজেলের ওপর লোকসান নিয়ন্ত্রণে আনাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।”
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকার অনুধাবন করছে যে দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে এবং পরিবহনে এর প্রভাব পড়ছে। তবে লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশন সামনে থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক স্বার্থ না দেখে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখে বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
পরিবহন ভাড়া যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ এবং ওএমএসের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা ও অক্টোবর থেকে পরিকল্পিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর পরিধি বাড়িয়ে সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।