আদালত বলেছে, যেহেতু মামলাটি ভূমির বিষয় জড়িত রয়েছে, সেহেতু এসআরবি আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী আদালত মহাপরিচালককে যে কোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে।
Published : 20 Sep 2026, 06:08 PM
ঢাকার মিরপুরে বাড়ি দখল, মারধর ও চাঁদা দাবির এক মামলা এসআরবিকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে আদালত।
র্যাব নাম বদলে এসআরবি হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেল পুলিশের বিশেষায়িত এ বাহিনী।
মো. মিজানুর রহমান ওরফে বাচ্চু নামে এক ব্যক্তি রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে মামলাটি করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বিচারক অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে এসআরবিকে নির্দেশ দেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন- হেমায়েত উদ্দিন সুমন, মো. নাজমুল হোসেন ও মুন্নী আক্তার মিষ্টি।
আদেশে বলা হয়, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনের ১০(গ) ধারায় এ বাহিনীকে মাদক, সাইবার অপরাধ, ভূমি ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু মামলাটি ভূমির বিষয় জড়িত রয়েছে, সেহেতু এসআরবি আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী আদালত মহাপরিচালককে যে কোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে।
“তাই বাদীর নালিশি দরখাস্তটি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) দ্বারা তদন্ত করা যুক্তিযুক্ত। এই আইনের ১৫(২) ধারায় মোতাবেক মহাপরিচালক, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), ইউনিটে কর্মরত পুলিশের উপপরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নয়, এমন কোনো সদস্য দিয়ে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হল।”
এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এসআরবি বিল পাস হয় এবং ১৬ সেপ্টেম্বর আইনটির গেজেট প্রকাশের পর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) পরিবর্তে নতুন ইউনিটটির কার্যক্রম শুরু হয়।
আইন অনুযায়ী আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে এসআরবি ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত করতে পারে।
যা অভিযোগ মামলায়
মামলায় বলা হয়েছে, মিরপুর হাউজিং এস্টেটের একটি জমিতে নির্মিত বহুতল ভবনের মালিক মো. ইউনুস আলী ও রুমা আক্তার সপরিবারে কানাডায় থাকেন। তাদের চাচা মিজানুর রহমান বাংলাদেশে থাকা তাদের স্থাবর সম্পত্তি দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা ওই বাড়ির মালিকদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি দখল ও আত্মসাতের চেষ্টা করে আসছিলেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই হেমায়েত উদ্দিন সুমনের নেতৃত্বে আসামিরা ‘জোর করে বাড়িতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা’ করেন। তাদের বাধা দেওয়া হলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আর্জিতে বলা হয়, একপর্যায়ে হেমায়েত উদ্দিন বাদী মিজানুর রহমানের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করেন এবং সেখান থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে যান ।