মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মাকসুদ কামাল এবং লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে বুধবার ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
Published : 17 Sep 2026, 10:05 PM
জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল প্রসিকিউশনের নজরদারিতে আছেন বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম।
মাকসুদ কামাল বাংলাদেশে থাকলে তার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে আমিনুল ইসলাম এ কথা বলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মাকসুদ কামাল এবং লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে বুধবার ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম। এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, মাকসুদ কামাল দেশে আছেন। প্রসিকিউশন কি তাকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে?
জবাবে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “কোনো আসামিকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ প্রসিকিউশন দেয় না। প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পরেই ফরমাল চার্জ দেওয়া হয়েছে। কেউ পলাতক থাকলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক আছে।”
মাকসুদ কামাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাকসুদ কামাল যেহেতু অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তি, তিনি আমাদের নজরদারিতে আছেন। তিনি বাংলাদেশে থাকলে পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ তার পক্ষে নেই।”
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি বৃহস্পতিবার কার্যতালিকায় উপস্থাপনের জন্য রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শুনানি হয়নি।
এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে কার্যতালিকায় থাকলেও শুনানি হয়নি। আশা করছি আগামী রোববার বা সোমবার দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ওপর শুনানি হবে।”
মামলার আট আসামির মধ্যে মাকসুদ কামাল ও জাফর ইকবালসহ ৫ জন পলাতক আছেন। অপর তিন আসামি- সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন ও তানভীর হাসান সৈকত বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
অন্য আসামিরা হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন।